ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একদিকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ আর অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তায় ব্যাপক ঘাটতি—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে সোমালিয়ার শিশুদের জীবন এখন চরম সংকটে। মূলত আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশটিতে জীবনরক্ষাকারী শিশুখাদ্যের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে।
রয়টার্সের তথ্যমতে, সোমালিয়ায় ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৫ লাখ শিশু 'সিভিয়ার ওয়েস্টিন' বা চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় জীবনরক্ষাকারী থেরাপিউটিক মিল্ক এবং পিনাট পেস্টের (চিনাবাদাম মিশ্রিত বিশেষ খাবার) সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পলিক্লিনিক এখন মুমূর্ষু শিশুদের চিকিৎসা না দিয়েই ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।
ত্রাণ সংস্থা 'আইআরসি' (IRC) জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে ইউরোপ থেকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে ৩০-৩৫ দিন লাগত, যা এখন ৬৫ দিন পর্যন্ত সময় নিচ্ছে। সরবরাহ সংকটে এক কার্টন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের দাম ৫৫ ডলার থেকে বেড়ে ২০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে আগের বাজেটে যেখানে ৩০০ শিশুর খাবার কেনা যেত, এখন তা দিয়ে মাত্র ৮৩ জনের সংকুলান হচ্ছে।
বর্তমানে সোমালিয়ার প্রায় ২০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের এক ধাপ পূর্ববর্তী ‘জরুরি’ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির হার ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এর ওপর যুদ্ধের প্রভাবে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ১৫০ শতাংশ।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী সংস্থা (OCHA) জানিয়েছে, সোমালিয়ায় দুর্ভিক্ষ এড়াতে ৮৫২ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত চাহিদার মাত্র ১৪ শতাংশ সংগৃহীত হয়েছে। তহবিল সংকটে ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে, যা সোমালিয়ার শিশুদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: টিআরটি উর্দু।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ