ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ-পররাষ্ট্র সচিব ওয়েন্ডি শারম্যান বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি মনে করেন চাপের মুখে ইরান পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করবে, তবে তিনি ভুল করছেন; এমনটা কখনোই ঘটবে না।
ওয়েন্ডি শারম্যান ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক ইরান পারমাণবিক চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদে এই চুক্তিটি বাতিল করেছিলেন।
'ব্লুমবার্গ উইকেন্ড শো'-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শারম্যান বলেন, ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাস ও প্রতিরোধের সংস্কৃতি অত্যন্ত গভীর। ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মদতে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে হটিয়ে শাহর শাসন কায়েম করার প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭৯ সালে দেশটিতে ইসলামি বিপ্লব ঘটেছিল। সেই প্রতিরোধের চেতনা আজও ইরানিদের মাঝে বিদ্যমান। তাই ট্রাম্প যখনই ইরানকে চাপে ফেলার চেষ্টা করেন, ইরান আরও বেশি অনমনীয় হয়ে ওঠে।
শারম্যানের মতে, ট্রাম্প ইরান থেকে যেসব বড় ছাড় পাওয়ার আশা করছেন, তা সহজলভ্য হবে না। তিনি উল্লেখ করেন: ইরান কখনোই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ত্যাগ করবে না। তারা হয়তো সাময়িকভাবে এটি স্থগিত করতে পারে, কিন্তু স্থায়ীভাবে বর্জন করবে না। ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সাথে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করবে না, বড়জোর সমর্থনের মাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনতে পারে। তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করবে না, তবে সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা করতে পারে।
সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, একজন বিল্ডার বা ডেভেলপার হিসেবে ট্রাম্পের চিন্তাধারা অত্যন্ত সাময়িক এবং লেনদেনভিত্তিক (Transactional)। ইরানের মতো জটিল ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে এই স্টাইল সফল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি আরও যোগ করেন যে, ট্রাম্পের কোনো সুদূরপ্রসারী বা সামগ্রিক কৌশল নেই এবং তিনি আসলে কোন বিষয়টিকে ‘সাফল্য’ হিসেবে গণ্য করবেন, তাও স্পষ্ট নয়।
এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সাময়িকী ‘দ্য বুলওয়ার্ক’ (The Bulwark)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ট্রাম্পের বর্তমান নীতিগুলো একটি পরাশক্তির আত্মহননের শামিল। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সাথে জোট দুর্বল হয়েছে এবং বিদেশের মাটিতে মার্কিন শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে।
সূত্র: ডেইলি জং।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ