পারমাণবিক জ্বালানি: কী এবং কীভাবে বিদ্যুৎ তৈরি হয়

পারমাণবিক জ্বালানি: কী এবং কীভাবে বিদ্যুৎ তৈরি হয়

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প শক্তির উৎস হিসেবে বর্তমানে পারমাণবিক শক্তি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই শক্তির উৎস যেমন কৌতূহলোদ্দীপক, তেমনি এর উৎপাদন পদ্ধতিও অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক। মূলত পরমাণুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াস থেকে প্রাপ্ত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদ্ধতিকেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বলা হয়।

পারমাণবিক শক্তি প্রধানত দুটি প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হতে পারে—ফিশন (বিভাজন) ও ফিউশন (সংযোজন)। তবে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে কেবল ফিশন পদ্ধতিই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফিশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি ভারী পরমাণু ভেঙে একাধিক ছোট অংশে পরিণত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করে। অন্যদিকে, ফিউশন পদ্ধতিতে হালকা পরমাণু মিলিত হয়ে শক্তি তৈরি করে, যা এখনো বিশ্বজুড়ে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

যেভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি: ফিশন প্রক্রিয়ায় জ্বালানি হিসেবে সাধারণত ইউরেনিয়াম-২৩৫ ব্যবহার করা হয়। একটি নিউট্রন যখন এই পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আঘাত করে, তখন সেটি বিভক্ত হয়ে দুটি ছোট নিউক্লিয়াস, অতিরিক্ত নিউট্রন এবং প্রচুর তাপশক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন নিউট্রনগুলো পুনরায় অন্য ইউরেনিয়াম পরমাণুকে আঘাত করে একটি ধারাবাহিক বিক্রিয়া বা ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ তৈরি করে। এই নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া থেকে উৎপন্ন তাপই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল শক্তির উৎস।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধাপসমূহ: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে রিঅ্যাক্টরের ভেতরে উৎপন্ন তাপ দিয়ে পানি ফুটিয়ে উচ্চচাপের বাষ্প তৈরি করা হয়। এই বাষ্পের চাপে বিশাল টারবাইন ঘোরে, যা জেনারেটরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। জেনারেটর ঘোরার মাধ্যমেই যান্ত্রিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। যদিও এই পদ্ধতিটি অনেকটা কয়লা বা গ্যাসচালিত কেন্দ্রের মতো মনে হতে পারে, তবে এখানে জ্বালানির প্রধান উৎস হলো পরমাণুর অভ্যন্তরীণ শক্তি।

জ্বালানির উৎস: ইউরেনিয়াম হলো পারমাণবিক জ্বালানির প্রধান উপাদান, যা বিভিন্ন খনিজ ও শিলায় পাওয়া যায়। প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া ইউরেনিয়ামে ‘ইউরেনিয়াম-২৩৫’-এর পরিমাণ কম থাকায় বিশেষ প্রক্রিয়ায় একে সমৃদ্ধ (Enrichment) করে এর ঘনত্ব বাড়ানো হয়। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামই কার্যকর পারমাণবিক জ্বালানি হিসেবে রিঅ্যাক্টরে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক বিশ্বে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে টেকসই বিদ্যুৎ নিশ্চিতে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন