শরীরকে সতেজ ও সচল করার উপায়

শরীরকে সতেজ ও সচল করার উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক: আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অলস জীবনযাত্রার কারণে আমাদের শরীর প্রায়ই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। দিনের শেষে ক্লান্তি, অবসাদ আর কাজে অনীহা যেন নিয়মিত সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরকে আবার আগের মতো সচল ও প্রাণবন্ত করে তুলতে খুব বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই; বরং প্রতিদিনের রুটিনে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস যোগ করাই যথেষ্ট।

কেন শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়ে? সুস্থতা-বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকা এবং পর্যাপ্ত চলাফেরার অভাব আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করে। মার্কিন বিশেষজ্ঞ এরিন ক্লিফোর্ড জানান, দিনের বেলা পর্যাপ্ত আলো এবং শারীরিক সক্রিয়তার অভাব শরীরের ‘ঘুম-জাগরণ’ চক্র বা অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে এলোমেলো করে দেয়। এর ফলে ঘুমের হরমোন ও ভালো লাগার রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা আমাদের মানসিকভাবেও অবসাদগ্রস্ত করে তোলে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় বসে থাকার ফলে পেশি ও স্নায়ুর সমন্বয় কমে গিয়ে শরীর শক্ত হয়ে যায়।

প্রাকৃতিক আলোর জাদুকরী প্রভাব: শরীরকে সচল করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো প্রাকৃতিক আলো গ্রহণ। সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা খুলে দেওয়া বা কিছুক্ষণ বারান্দায় সময় কাটানো শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে পুনরায় সক্রিয় করে। দিনের শুরুতে এই আলো শরীরকে বার্তা দেয় যে এখন জেগে ওঠার সময়, যা প্রাকৃতিকভাবেই কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো প্রবেশের সুযোগ রাখলে মানসিক প্রশান্তিও বাড়ে।

সচল থাকার সহজ কৌশল:

  • বাইরে সময় কাটানো: প্রতিদিন নিয়ম করে খোলা পরিবেশে অন্তত ১৫-২০ মিনিট সময় কাটান। দীর্ঘ সময় নয়, বরং ছোট ছোট বিরতিতে বাইরে হাঁটাহাঁটি করলে মানসিক চাপ কমে এবং শরীর দ্রুত সতেজ হয়।

  • অল্প নড়াচড়া দিয়ে শুরু: শরীরকে সচল করতে শুরুতেই কঠিন ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। হালকা স্ট্রেচিং, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার কিংবা ঘরের ভেতরেই কিছুক্ষণ হাঁটা বেশ কার্যকর। প্রতিদিন কয়েকবার ৫-১০ মিনিটের নড়াচড়া পেশিকে সক্রিয় রাখে।

  • ধীরে ধীরে অভ্যাস গঠন: শরীরচর্চার ক্ষেত্রে শুরুতেই নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেবেন না। হঠাৎ বেশি পরিশ্রমে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ধীরে ধীরে ব্যায়ামের সময় বা তীব্রতা বাড়ানো উচিত। এতে অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে বজায় রাখা সহজ হয়।

  • মানসিক প্রশান্তি: শারীরিক সক্রিয়তার পাশাপাশি মনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম মানসিক উদ্যম ফিরিয়ে আনে। নিজের অনুভূতি বোঝা এবং নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা সুস্থ থাকার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রতিদিনের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। নিয়মিত অল্প পরিশ্রমে শরীরচর্চা করলে তা দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মন উভয়কেই সুস্থ ও সবল রাখতে সহায়তা করে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন