টানা ৩০ দিন কফি পান ছেড়ে দিলে কী ঘটে শরীরে, জানুন

টানা ৩০ দিন কফি পান ছেড়ে দিলে কী ঘটে শরীরে, জানুন

কালবেলা ডেস্ক: অনেকের দিন শুরু হয় ধোঁয়া ওঠা এক কাপ কফি দিয়ে। কিন্তু শখের এই ক্যাফেইন গ্রহণ যদি টানা ৩০ দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসবে? সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে একটি রুটিন ভাইরাল হওয়ার পর চিকিৎসকরা তাঁদের বৈজ্ঞানিক মতামত দিয়েছেন।

শুরুর ধাক্কা (১ থেকে ৩ দিন)

কফি ছেড়ে দেওয়ার প্রথম ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শরীরে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, ক্যাফেইন বন্ধ করলে মস্তিষ্কে অ্যাডিনোসিন নামক উপাদানের কার্যকারিতা বাড়ে এবং রক্তনালি প্রসারিত হয়। এর ফলে তীব্র মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব এবং খিটখিটে মেজাজ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৫১ ঘণ্টার মধ্যে বমি ভাব বা পেশিতে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

উন্নতির পথ (৩ থেকে ৭ দিন)

তৃতীয় দিন থেকে শরীর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে। ক্যাফেইন শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় অনেকের ঘুমের গুণগত মান উন্নত হয়। চতুর্থ থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে অধিকাংশ মানুষের মানসিক জড়তা (ব্রেইন ফগ) এবং মাথাব্যথা কমে আসে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব (১০ থেকে ৩০ দিন)

সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয় যে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ডোপামিন হরমোন পুনর্স্থাপিত হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, এর জোরালো কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। নিউরোলজিস্ট ড. প্রবীণ গুপ্ত জানান, কফি ছাড়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই বেশিরভাগ জ্ঞানীয় সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। ১৫ থেকে ৩০ দিনের মাথায় শক্তির স্তর স্থিতিশীল হতে পারে, তবে তা মূলত ব্যক্তির পুষ্টি, ঘুম ও জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ক্লিনিক্যাল ডায়েটিশিয়ান মীনাক্ষী আগরওয়ালের মতে, ক্যাফেইন ত্যাগের প্রতিক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। সাধারণত ৯ দিনের মধ্যেই শারীরিক অস্বস্তি কেটে শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। কফি ছাড়ার পরিকল্পনা করলে প্রথম কয়েক দিনের মাথাব্যথা ও ক্লান্তির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করবে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন