ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মুফতি উমর ফারুক আশিকী: পবিত্র কোরআনের প্রতিটি শব্দই হেদায়েতের আলোকবর্তিকা, তবে আয়াতুল কুরসির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এটি কেবল একটি আয়াত নয়, বরং মহান আল্লাহর সার্বভৌমত্বের এক অনন্য ঘোষণা। কেন এই আয়াতটি প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে, তার পেছনে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক ও বাস্তবিক কারণ।
তাওহিদের ঘোষণা: এই আয়াতের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর একত্ববাদ। এটি পাঠের মাধ্যমে বান্দা স্বীকার করে নেয় যে, মহাবিশ্বের সবকিছুর নিয়ন্ত্রক একমাত্র আল্লাহ।
বিশেষ হেফাজত: এই আয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এটি পাঠকারীকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অশুভ শক্তি থেকে সুরক্ষিত রাখে।
মানসিক প্রশান্তি: অস্থির মনে প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে আয়াতুল কুরসি এক মহৌষধ। এর গভীর অর্থ হৃদয়ে অনাবিল সান্ত্বনা ও ভরসা তৈরি করে।
জান্নাতের টিকিট: হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি প্রতিটি ফরজ নামাজের পর এটি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র বাধা হবে মৃত্যু।
শরিয়তের আলোকে এই মহিমান্বিত আয়াতটি পড়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
১. ফরজ নামাজের পর: প্রতিটি ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর এটি পড়ার আমল করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। ২. ঘুমানোর আগে: রাতের বেলা শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে এবং আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকতে শোয়ার আগে এটি পাঠ করা সুন্নাহ। ৩. বিপদ ও সংকটে: যখনই কোনো সংকট বা অস্থিরতা আসবে, আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহতায়ালা সাহায্য ও ধৈর্য দান করেন।
সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই এই আয়াতটি মুখস্থ করানো উচিত, যেন তারা আল্লাহর বিশেষ হেফাজতে বেড়ে ওঠে। কেবল বরকতের জন্য নয়, বরং অর্থ বুঝে নিয়মিত এটি পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ