ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ধর্ম ডেস্ক: প্রতিকূলতা আর চরম জুলুমের মুখেও একজন মহীয়সী নারী কীভাবে সত্যের পথে অবিচল থাকতে পারেন এবং একজন মহান মানুষকে গড়ে তুলতে পারেন, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ বিবি আছিয়া। ইতিহাসে তিনি ফেরাউনের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হলেও, তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি ছিলেন হজরত মুসার (আ.) পালক মাতা।
হজরত মুসা (আ.)-এর জন্মদাত্রী মা যখন আল্লাহর নির্দেশে শিশু মুসাকে ঝুড়িতে ভরে নীলনদে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন, তখন আল্লাহর বিশেষ পরিকল্পনায় সেই ঝুড়ি পৌঁছায় ফেরাউনের ঘাটে। আছিয়া (আ.) প্রথম দেখাতেই এই শিশুর মায়ায় পড়ে যান। কোরআনের বর্ণনায় তিনি ফেরাউনকে বলেছিলেন, "এই শিশুটি আমার ও তোমার চোখের শীতলতা। একে হত্যা করো না, হয়তো সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।" তাঁর এই দৃঢ় অবস্থানের কারণেই মুসা (আ.) রাজপ্রাসাদে নিরাপদে বেড়ে ওঠার সুযোগ পান।
রাজপ্রাসাদের ঐশ্বর্যের মাঝে বড় হলেও মুসা (আ.)-এর ব্যক্তিত্বে ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতার যে গুণগুলো ফুটে উঠেছিল, তার পেছনে মা আছিয়ার মমত্ববোধ ও শিক্ষার প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য। তিনি মুসা (আ.)-কে বিলাসিতার মোহে অন্ধ হতে দেননি, বরং সত্যের প্রতি অবিচল থাকার এক নীরব দীক্ষা দিয়ে গেছেন। ইবনে কাসিরের মতে, মুসা (আ.)-এর স্তন্যদানের জন্য তাঁর নিজের মাকেই প্রাসাদে রাখা হয়েছিল, ফলে দুই মায়ের ভালোবাসায় তিনি পূর্ণতা পেয়েছিলেন।
বিবি আছিয়ার জীবনের সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় হলো তাঁর ঈমানি দৃঢ়তা। ফেরাউনের মতো দম্ভী ও প্রতাপশালী ব্যক্তির স্ত্রী হয়েও তিনি মনে-প্রাণে এক আল্লাহর ইবাদত করতেন। যখন ফেরাউন তাঁর এই বিশ্বাসের কথা জানতে পারেন, তখন তাঁর ওপর নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। রাজকীয় সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নাকি মৃত্যু—ফেরাউনের দেওয়া এই কঠিন শর্তের মুখে আছিয়া (আ.) হাসিমুখে মৃত্যুকে বেছে নেন।
নির্যাতনের সেই চরম মুহূর্তে তিনি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেছিলেন—
"হে আমার রব! আমার জন্য আপনার কাছে জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করুন এবং আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে মুক্তি দিন।" (সুরা তাহরিম, আয়াত: ১১)
হাদিস অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে যাঁরা পূর্ণতা অর্জন করেছেন, বিবি আছিয়া তাঁদের মধ্যে অন্যতম। একজন মা হিসেবে তিনি শিখিয়ে গেছেন কীভাবে প্রতিকূল পরিবেশেও সন্তানদের আল্লাহর পথে গড়ে তুলতে হয়। তাঁর আত্মত্যাগ ও বিশ্বাস আজও বিশ্বজুড়ে মুসলিম নারীদের জন্য এক অন্তহীন অনুপ্রেরণার উৎস।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ