ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
আবু রায়হান, রংপুর ব্যুরো: রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ‘দেউতি হাট’ ইজারা নিয়ে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের নাম ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, গত ৯ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খাস ডাকে ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকায় হাটের ইজারা পান পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন। তবে ইজারা পাওয়ার পর তিনি ও যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম বিনিয়োগকারীদের জানান, হাটটি পেতে বড় অঙ্কের ‘অতিরিক্ত অর্থ’ খরচ হয়েছে। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী—ইউএনও’র নামে ৩ লাখ ২০ হাজার, এক শীর্ষ নেতার নামে ২ লাখ এবং ভূমি তহশিলদারের নামে ২০ হাজার টাকাসহ মোট ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৫৯ লাখ টাকার টেন্ডার বাতিল করে কম দামে খাস ডাকের মাধ্যমে হাটটি ইজারা দেওয়া হয়, যা সরকারের রাজস্বের বড় ক্ষতি। এছাড়া সরকারি বিধি উপেক্ষা করে ৪৫ লাখ টাকায় হাটটি পুনরায় সাব-ইজারা দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২৩ অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অভিযুক্ত ইজারাদার আব্দুল মতিন বলেন, "কাকে কত দিয়েছি সেটা আমার বিষয়।"
অন্যদিকে, পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর নাম ব্যবহার করে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে যারা এই লুটপাটে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে রাষ্ট্রের ক্ষতিগ্রস্ত রাজস্ব উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ