আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ফুরিয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত

আকাশ প্রতিরক্ষা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, ফুরিয়ে আসছে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ অভিযানে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত নিয়ে সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মোট ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে। 

ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের’ (সিএসআইএস) বিশ্লেষণের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের তীব্রতা মার্কিন গোলাবারুদ ও সমরাস্ত্রের ভাণ্ডারে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।

তথ্যমতে, মোট মজুতের প্রায় ৫০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ইতোমধ্যে ব্যবহৃত হয়েছে। আকাশ প্রতিরক্ষার অত্যন্ত শক্তিশালী ‘থাড সিস্টেম’ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি ইন্টারসেপ্টর ফুরিয়ে গেছে। লক্ষ্যভেদী ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ ক্ষেপণাস্ত্রের ৪৫ শতাংশেরও বেশি মজুত শেষ হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যাপক হারে এই ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টরগুলো ব্যবহার করতে হয়েছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চললে পেন্টাগন বড় ধরনের কৌশলগত ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মজুত ফুরিয়ে আসায় প্রতিরক্ষা শিল্পকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে যে সময় ও অর্থের প্রয়োজন হয়, তা বর্তমান ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট নয়।

মিডল ইস্ট আই।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন