বিপত্তি এড়াতে ঘরে যে জিনিসগুলো বাড়তি রাখবেন

বিপত্তি এড়াতে ঘরে যে জিনিসগুলো বাড়তি রাখবেন

ফিচার ডেস্ক: বিপদ বা জরুরি অবস্থা কখনো বলে-কয়ে আসে না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের বাইরেও এমন কিছু জিনিস আছে, যা ঘরে বাড়তি পরিমাণে মজুত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এই ছোট ছোট প্রস্তুতি বড় কোনো বিড়ম্বনা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে পারে। জেনে নিন এমন ১০টি জিনিসের তালিকা, যা আপনার সংগ্রহে থাকা জরুরি।

১. প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম ও নিয়মিত ওষুধ

বাড়িতে এক সেট অতিরিক্ত প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম (First Aid Kit) জীবনরক্ষাকারী হয়ে উঠতে পারে। ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক ছাড়াও নিয়মিত সেবনের ওষুধগুলো অন্তত ১৫ থেকে ৩০ দিনের বাড়তি মজুত রাখুন। তবে নিয়মিত বিরতিতে এগুলোর মেয়াদের তারিখ পরীক্ষা করা জরুরি।

২. অতিরিক্ত ব্যাটারি ও টর্চলাইট

বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে টর্চলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের প্রধান প্রবেশপথ, রান্নাঘর এবং শোয়ার ঘরে অন্তত একটি করে টর্চলাইট রাখুন। পাশাপাশি টিভি, এসি রিমোট বা ঘড়ির জন্য বাড়তি ব্যাটারি কিনে রাখুন।

৩. পাওয়ার ব্যাংক ও চার্জার

স্মার্টফোন এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জরুরি মুহূর্তে চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া বড় বিপত্তি ডেকে আনতে পারে। তাই অন্তত একটি পোর্টেবল পাওয়ার ব্যাংক এবং বাড়তি চার্জার সবসময় হাতের কাছে রাখুন।

৪. টয়লেট পেপার ও পলিব্যাগ

টয়লেট পেপার হঠাৎ ফুরিয়ে যাওয়া বেশ বিরক্তিকর। তাই সবসময় এক ডজন রোলের একটি প্যাকেট বাড়তি রাখার চেষ্টা করুন। এছাড়া বর্জ্য অপসারণ বা জিনিসপত্র ভেজা থেকে বাঁচাতে মজবুত ও পুরু পলিব্যাগ পর্যাপ্ত পরিমাণে সংগ্রহে রাখুন।

৫. পোষা প্রাণীর খাবার

আপনার যদি পোষা প্রাণী থাকে, তবে তার নিয়মিত খাবারের অন্তত এক সপ্তাহের বাড়তি মজুত নিশ্চিত করুন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বা যেকোনো কারণে বাইরে বের হতে না পারলে এটি প্রাণীটির কষ্ট লাঘব করবে।

৬. তরল হ্যান্ডওয়াশ

হ্যান্ডওয়াশ এমন একটি পণ্য যা ফুরিয়ে যাওয়ার আগে সচরাচর খেয়াল করা হয় না। তাই বিপত্তি এড়াতে সবসময় অন্তত একটি বাড়তি রিফিল প্যাক কিনে রাখুন।

৭. স্পঞ্জের স্যান্ডেল

হঠাৎ জুতো ছিঁড়ে যাওয়া বা বাড়িতে অতিথি আসার কথা ভেবে জুতার আলমারিতে দু-এক জোড়া নতুন স্পঞ্জের স্যান্ডেল রাখুন। ভ্রমণে বা হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজনেও এটি কাজে লাগতে পারে।

৮. নগদ টাকা

প্রযুক্তির যুগে আমরা কার্ড বা অনলাইন পেমেন্টে অভ্যস্ত হলেও, বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা সার্ভার সমস্যার কথা মাথায় রেখে ঘরে জরুরি ব্যবহারের জন্য কিছু নগদ টাকা আলাদা করে রাখুন।

সঠিক সময়ে সঠিক সরঞ্জামের উপস্থিতি আপনার মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। তাই আজই আপনার ঘরের স্টোর রুম বা ড্রয়ারটি গুছিয়ে ফেলুন।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন