বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন 'ভাগাড়': সেবার বদলে ছড়াচ্ছে রোগ

বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এখন 'ভাগাড়': সেবার বদলে ছড়াচ্ছে রোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিয়ানীবাজার: এক সময় জরুরি প্রসূতিসেবা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবায় একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেছিল সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু সেই সোনালী অতীত এখন শুধুই স্মৃতি। বর্তমানে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালটি চরম অব্যবস্থাপনা আর নোংরা পরিবেশে কার্যত এক 'ভাগাড়ে' পরিণত হয়েছে। ওয়ার্ডের মেঝেতে পড়ে থাকা ব্যবহৃত টিস্যু, ব্যান্ডেজ, তুলা, স্যালাইনের প্যাকেট আর যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কোনো চিকিৎসাকেন্দ্র। হাসপাতালের জরাজীর্ণ দশা আর মশা-মাছির উপদ্রবে রোগ সারাতে এসে উল্টো অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতরকার পরিবেশ অত্যন্ত শোচনীয়। দেয়ালে দেয়ালে থুতু ও কাশির দাগ, ভাঙা জানালা-দরজা এবং শৌচাগার থেকে আসা তীব্র দুর্গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। বিশেষ করে দোতলার পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডের শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। টয়লেটের ট্যাপসহ যাবতীয় সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে আছে, মেঝেতে জমে আছে ময়লা পানি। দরজার সিটকিনি না থাকায় অনেক জায়গায় নাইলনের দড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। আজিম ও সামছুল হক নামের দুই রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শৌচাগারগুলো এতটাই নোংরা যে ভেতরে গেলে বমির উপক্রম হয়, অথচ নিরুপায় হয়ে তাদের এগুলোই ব্যবহার করতে হচ্ছে। এমনকি কেবিনে থাকা রোগীরাও বালতি দিয়ে পানি ঢেলে ময়লা পরিষ্কার করে টয়লেট ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ মিলিয়ে প্রায় ৫-৬শ রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্তর্বিভাগসহ প্রতিদিন গড়ে ৭-৮শ মানুষের সমাগম ঘটে এই কমপ্লেক্সে। অথচ এত বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা তদারকি নেই। শৌচাগারগুলো দিনে দুবার পরিষ্কার করার নিয়ম থাকলেও অনেক সময় একবারও করা হয় না। এছাড়া জনবল সংকটের কারণেও ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ ছুটিতে বা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। কারিগরি জনবল বা টেকনোলজিস্টের অভাবে হাসপাতালের মূল্যবান অনেক চিকিৎসা যন্ত্রাংশ বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।

পুরস্কার পাওয়া হাসপাতালের এই বেহাল দশা কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনিরুল হক খান জানান, তারা সাধ্যমতো ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে শৌচাগারগুলোর এমন দশা কেন তা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। একইসাথে তিনি দাবি করেন, কেবল কর্তৃপক্ষ নয়, রোগীদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অনেকেই ওয়ার্ডের ভেতরে থুতু বা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করেন। বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, তদারকি ও দ্রুত সংস্কার না করলে সাধারণ মানুষের সরকারি চিকিৎসাসেবা পাওয়ার এই আশ্রয়স্থলটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন