সরকার গঠন করতে পারলে শহীদ হাদি হত্যার বিচার করব: জামায়াত আমির

সরকার গঠন করতে পারলে শহীদ হাদি হত্যার বিচার করব: জামায়াত আমির

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি ঝালকাঠির গর্ব, তিনি কোনো ব্যক্তি বা দলের নন—পুরো জাতির গর্বের সন্তান। হাদি দুটি স্বপ্ন বুকে ধারণ করেছিল—একটি আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ, আরেকটি বৈষম্যহীন ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লড়াই করতে গিয়ে তিনি জীবন দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা সরকার গঠন করতে পারলে হাদি হত্যার বিচার অবশ্যই করা হবে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শহীদ হাদির রক্তের দায় রাষ্ট্রকে নিতেই হবে। দেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা আর চলতে দেওয়া হবে না। জামায়াত জোট সরকার গঠন করতে পারলে শহীদ পরিবারের জন্য শুধু সান্ত্বনা নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাঁড়িপাল্লা ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। কিন্তু আজ দেশে চলছে বেইনসাফের রাজনীতি। গরিব মানুষ আদালতে গিয়ে বিচার পায় না, নির্যাতিত মা-বোনেরা বছরের পর বছর ঘুরেও ন্যায়বিচার পায় না। এই অবস্থার অবসান ঘটানো হবে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ জনগণের। এসব টাকা উদ্ধারে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার গঠন করলে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের ন্যায্য সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে, যাতে তারা সাহস ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কেউ যদি পেশিশক্তি দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করতে হবে। ভয় দেখিয়ে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার দিন শেষ।

নারী নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন বাংলাদেশ চায়, যেখানে নারী ঘরে ও বাইরে সর্বত্র নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। এটি জামায়াতের রাষ্ট্রদর্শনের অংশ।

যুব সমাজের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে যুবসমাজ রাজপথে না নামলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হতো না। আগামীতেও দেশের পরিবর্তনে যুবকরাই হবে প্রধান শক্তি।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো এলাকা কার আসন—এ বিবেচনায় নয়, ন্যায়ের ভিত্তিতে সব এলাকায় সমান উন্নয়ন হবে।

বক্তব্যের শেষে তিনি ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন