ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার ও জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে পদযাত্রা চলাকালে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় পুলিশের বাধা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় সংগঠনটির সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের কয়েকশ নেতাকর্মী শাহবাগ থেকে ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিলে আন্দোলনকারীরা তা ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ শুরু করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আন্দোলনকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেড ও স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর আহত হন সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। সংগঠনটির পক্ষ থেকে তাকে ‘গুলিবিদ্ধ’ দাবি করা হলেও হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তারা গুলিবিদ্ধ নন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সংঘর্ষে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন আন্দোলনকারী এবং বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে আহত নেতাকর্মীর সংখ্যা শতাধিক বলে দাবি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেও সন্ধ্যা পর্যন্ত শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করে এলাকাটি কার্যত কর্ডন করে রাখা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পুনরায় অবস্থানের চেষ্টা করছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি নির্বাচনী প্রচারকালে গুলিতে আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং আন্তর্জাতিক মানের তদন্তের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল সংগঠনটি।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ