সাভারে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ‘সাইকো সম্রাট’: ৫ খুনের রহস্য উন্মোচন

সাভারে ভবঘুরের ছদ্মবেশে ‘সাইকো সম্রাট’: ৫ খুনের রহস্য উন্মোচন

সাভার প্রতিনিধি: সাভার পৌরসভার পরিত্যক্ত একটি কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন পুরো এলাকা আতঙ্কে থমকে গেছে, ঠিক তখনই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে এক দুর্ধর্ষ ঘাতককে আটক করেছে পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে থাকা এই ‘সিরিয়াল কিলার’-এর নাম মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাভার মডেল থানা পুলিশ তাকে আটক করে। সম্রাটের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে একই স্থানে পৃথক সময়ে সংঘটিত মোট পাঁচটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক কাহিনী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্রাটকে এলাকার সবাই একজন সাধারণ ভবঘুরে হিসেবেই চিনত। সে কখনো রাস্তায়, আবার কখনো পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে লক্ষ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু তার এই ভবঘুরে বেশের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক ভয়ংকর খুনি। রবিবার সকালে ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুটি লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তদন্তে নামে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভবঘুরে সম্রাটই ওই হত্যাকাণ্ডের মূল কারিগর। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই সে তার অপরাধ স্বীকার করে নেয়। সম্রাট জানায়, রবিবার করা দুটি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও এর আগে বিভিন্ন সময়ে ওই একই পরিত্যক্ত ভবনে আরও তিনজনকে সে একাই হত্যা করেছে।

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের পরপরই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এই ঘাতককে শনাক্ত করি। সম্রাট পেশাদার অপরাধী না হলেও তার মানসিক বিকৃতি বা ‘সাইকো’ স্বভাবের কারণে সে একের পর এক এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ই সে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। সম্রাটের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এই লোমহর্ষক ঘটনার নেপথ্যে আর কোনো কারণ আছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘাতককে দ্রুত আটকের খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন