মহানবী (সা.) যেভাবে অন্যকে প্রাধান্য দিতেন

মহানবী (সা.) যেভাবে অন্যকে প্রাধান্য দিতেন

অনলাইন ডেস্ক: ইসলামি ইতিহাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল উদারতা এবং পরোপকারের এক অনন্য উদাহরণ। নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তিনি সবসময় অন্যকে প্রাধান্য দিতেন। সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস থেকে তাঁর এই অনুপম চরিত্রের এক বিশেষ দিক ফুটে ওঠে।

চাদর উপহার ও অন্যের আবেদন: একবার এক নারী মহানবী (সা.)-এর জন্য নিজের হাতে বোনা একটি সুন্দর চাদর উপহার হিসেবে নিয়ে আসেন। তখন রাসূল (সা.)-এর একটি চাদরের প্রয়োজনও ছিল। তিনি সেটি গ্রহণ করলেন এবং লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করে সাহাবীদের সামনে এলেন। উপস্থিত এক সাহাবী চাদরটি দেখে মুগ্ধ হয়ে বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটি তো চমৎকার, আপনি কি এটি আমাকে পরিধান করতে দেবেন?" মহানবী (সা.) মুহূর্তকাল দেরি না করে সানন্দে বললেন, "ঠিক আছে।"

মজলিসে কিছুক্ষণ বসার পর তিনি ঘরে গিয়ে চাদরটি ভাঁজ করে ওই সাহাবীর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। যদিও তাঁর নিজের ওই পোশাকটির প্রয়োজন ছিল, তবুও তিনি যাচিত ব্যক্তিকে নিরাশ করেননি।

সাহাবীদের প্রতিক্রিয়া ও বরকতের আশা: অন্য সাহাবীরা ওই ব্যক্তিকে বললেন, "রাসূল (সা.)-এর প্রয়োজনে তিনি এটি পরেছিলেন, আর তুমি সেটি চেয়ে বসলে? তুমি তো জানো তিনি কাউকেই ফিরিয়ে দেন না।" তখন ওই সাহাবী উত্তর দিলেন, "আল্লাহর কসম, আমি এটি ব্যবহার করার জন্য চাইনি; আমি চেয়েছি এই বরকতময় চাদরটি যেন আমার মৃত্যুর পর কাফনের কাপড় হয়।" পরবর্তীতে মহানবী (সা.)-এর সেই চাদরটিই ওই সাহাবীর কাফন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

এই ঘটনা থেকে শিক্ষা: ১. পরোপকার: নিজের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া (ঈসার) অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। ২. উদারতা: মহানবী (সা.)-এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি কখনও ‘না’ বলতেন না। মানুষের প্রয়োজন ও আবেগকে তিনি সর্বোচ্চ সম্মান দিতেন। ৩. আখিরাত মুখী হওয়া: ওই সাহাবীর চিন্তা ছিল পরকালীন বরকত নিয়ে। একজন মুমিনের প্রতিটি কাজে আখিরাতের চিন্তা থাকা উচিত। ৪. সহজ জীবনযাপন: বিশ্বনেতা হয়েও মহানবী (সা.) সাধারণ ও বিলাসিতাহীন জীবন অতিবাহিত করতেন।

রাসূল (সা.)-এর এই আদর্শ আমাদের একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল ও উদার হওয়ার শিক্ষা দেয়।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন