ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সাঈদ পান্থ, বরিশাল: সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী হাম রোগ বরিশাল বিভাগে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সংক্রমণের তীব্রতায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। ইতোমধ্যে বিভাগে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ২২ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহ পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত ২ হাজার ১১৭ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হামের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্চ মাস থেকে হঠাৎ করেই বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলায় সংক্রমণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় জেলা দুটিকে সংক্রমণের ‘হটস্পট’ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বরিশালের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। শয্যা সংকটে অনেক শিশু বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে। সরকারি হাসপাতালে জায়গা না পেয়ে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে ছুটছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। অ্যাপোলো হাসপাতাল, মেডিনোভা, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও সাউথ অ্যাপোলো ক্লিনিকেও রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বি.সি. বিশ্বাস (বিধান) জানান, সংক্রমণ রোধে দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং শিশুদের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সিনিয়র ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. মোশাররফ হোসেন জানান, প্রতিদিন অসংখ্য শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য আসছে, যা সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এখনই ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি না করলে পরিস্থিতি আরও বড় বিপর্যয়ের দিকে মোড় নিতে পারে।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ