চালু না হওয়া হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চুরি, সেবা বঞ্চিত ৩ উপজেলার মানুষ

চালু না হওয়া হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চুরি, সেবা বঞ্চিত ৩ উপজেলার মানুষ

চালু না হওয়া হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চুরি, সেবা বঞ্চিত ৩ উপজেলার মানুষ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি (জলিলুর রহমান জনি): নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হলেও জনবল ও নিরাপত্তার অভাবে হাসপাতালটি বর্তমানে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এতে কামারখন্দ, বেলকুচি ও উল্লাপাড়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজারো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, চৌবাড়ী বাজার পেরিয়ে আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত দোতলা সাদা রঙের হাসপাতাল ভবনটির প্রধান ফটকে ঝুলছে পুরোনো তালা। ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে চত্বরজুড়ে আগাছা, করিডোরে মাকড়সার জাল, ভাঙা জানালার কাচ ও ধুলাবালিতে ঢাকা কক্ষ। যেখানে থাকার কথা রোগীর শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম, সেখানে এখন নীরবতা ও শূন্যতা।

চুরি হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকার সরঞ্জাম—জনবল ও নিরাপত্তা না থাকায় হাসপাতালটি চোরচক্রের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। কামারখন্দ উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, হাসপাতালের রান্নাঘরের পেছনের গেট দিয়ে ঢুকে দরজা ভেঙে চোরেরা ৫৫টি সিলিং ফ্যান, ৯০টি লাইট, প্রতিটি ইউনিটের সার্কিট ব্রেকার, ওয়াশরুমের স্যানিটারি ফিটিংস, একটি এসির আউটডোর ইউনিট, পাওয়ার স্টেশনের ট্রান্সফরমার, জেনারেটরের কয়েল, ব্যাটারি ও তামার তারসহ আনুমানিক ৪০ লাখ টাকার সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে গেছে।

নিরাপত্তা ও জনবল সংকটের কথা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কামারখন্দ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন উদ্দিন বলেন, “ভবন খালি থাকায় প্রায় ৪০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও জনবল সংকট থাকায় সেখানে নাইটগার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি। একাধিকবার মৌখিক অভিযোগের পর লিখিত অভিযোগ করা হলে মামলা হয়েছে।”

কামারখন্দ উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো. আবু সাঈদ বলেন, “নিয়মিত চুরির ঘটনা ঘটছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে, হাসপাতালের ভেতরে মাদকসেবনও করা হয়।”

চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। চৌবাড়ী ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তোজ্জামেল হক বলেন, “হাসপাতালটি চালু হলে শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ চিকিৎসাসেবা পেত। কিন্তু এখন সবাই সেই সেবা থেকে বঞ্চিত।”

কামারখন্দ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বাবুল আক্তার জানান, “লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জনবল না থাকায় বিভিন্ন সময় চুরির ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমীন বলেন, “কামারখন্দের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালেই জনবল সংকট রয়েছে। এ কারণে চৌবাড়ীর ২০ শয্যা হাসপাতালে জনবল দেওয়া সম্ভব হয়নি। চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

স্বাস্থ্যখাতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি হাসপাতাল চালু না হওয়া এবং সেখানে লাখ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত জনবল নিয়োগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় এটি পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন