নীলফামারী-১: স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘিরে নয়া সমীকরণ

নীলফামারী-১: স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘিরে নয়া সমীকরণ

মোঃ মকবুলার রহমান, ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি: নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা) সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সম্ভাবনা। সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভগ্নিপতির প্রার্থিতা সংক্রান্ত আলোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের পিতা ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে যে, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে অবতীর্ণ হন, তবে ডোমার ও ডিমলা উপজেলার বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বড় ধরনের দ্বিধা ও বিভাজন তৈরি হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও সমমনা জোটের দলীয় প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর নাম ঘোষিত হলেও স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন এক বাস্তবতা কাজ করছে। এখন সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে জোটপ্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, নাকি এলাকার পরিচিত ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের প্রতি তাদের সমর্থন উজাড় করে দেবেন? এই পরিস্থিতি বিএনপি নেতা-কর্মীদের সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে রয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মানার বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন।

সার্বিক দিক বিবেচনায়, নীলফামারী-১ আসনে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ডোমার–ডিমলার চিরাচরিত রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল ও নাটকীয় করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় আনুগত্য নাকি স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা—কোনটি তৃণমূলের সিদ্ধান্তে শেষ হাসি হাসবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তৎপরতা এই আসনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন