শ্রীপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহস্থের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

শ্রীপুরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গৃহস্থের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের দক্ষিণ বেলতলী এলাকায় আলফাজ উদ্দিনের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী বাড়ির মালিক আলফাজ উদ্দিন জানান, গভীর রাতে তিনি ও তার স্ত্রী ঘুমে ছিলেন। হঠাৎ জানালার শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক ব্যক্তি ঘরের সিলিংয়ের ফাঁক দিয়ে ভেতরে লাফিয়ে পড়ে দ্রুত সদর দরজা খুলে দেয়। সাথে সাথে মুখে কাপড় বাঁধা আরও তিন-চারজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে আলফাজ উদ্দিনের কাছে ব্যাংক থেকে তোলা ১২ লাখ টাকার সন্ধান চায়। টাকা নেই বললে তারা ধারালো অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে এবং আলমারির চাবি ছিনিয়ে নেয়। এরপর ঘরজুড়ে তণ্ডব চালিয়ে নগদ প্রায় এক লাখ টাকা, কয়েক ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি স্মার্টফোন লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী দুলেনা খাতুন আতঙ্কের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ডাকাতরা ঘরে ঢোকার সাথে সাথে ভয়ে আমি গলার চেইন খুলে হাতে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু ডাকাত দলের একজন টের পেয়ে সেটি ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ করে সব মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। বাড়ির মালিকের ধারণা, ডাকাতরা প্রথমে মূল ফটক ও বারান্দার গ্রিলের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে একটি কক্ষের দরজা ভেঙে সিলিংয়ের ওপর দিয়ে শোবার ঘরে ঢোকে। ডাকাতরা পরিকল্পিতভাবে বিপুল অংকের টাকার সন্ধানে এই হামলা চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে বুধবার সকালে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ডাকাত চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন