কুমিল্লার দুটি আসনে প্রার্থীশূন্য বিএনপি: জামায়াত-এনসিপি জোটের পথ সুগম

কুমিল্লার দুটি আসনে প্রার্থীশূন্য বিএনপি: জামায়াত-এনসিপি জোটের পথ সুগম

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার: কুমিল্লার নির্বাচনী রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়তে যাচ্ছে বিএনপি। জেলার গুরুত্বপূর্ণ ১১টি আসনের মধ্যে দুটি আসনে দলটির কোনো প্রার্থী না থাকায় রাজনীতির মাঠ এখন অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের ফলে এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব আসনে বিএনপির প্রার্থী না থাকায় জামায়াত ও এনসিপি জোটের প্রার্থীরা এখন অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন এবং বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই জয়ের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) আপিল শুনানির শেষ দিনে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিএনপির মূল প্রার্থী আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিলের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত শুনানিতে জানানো হয়, আব্দুল গফুর ভূঁইয়া তার নির্বাচনি হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছেন।

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকির করা আপিলের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। একই দিনে এই আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার আপিল আবেদনটিও নামঞ্জুর হয়েছে। ঋণ খেলাপির দায়ে জেলা পর্যায়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল, যা কমিশন বহাল রাখে। ফলে কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির আর কোনো প্রতিনিধি রইল না।

এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি মনজুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তার বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে আপিল করেছিলেন ওই আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। 

কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে মনজুরুল আহসান মুন্সি প্রার্থিতা হারান। অন্যদিকে, হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দেবিদ্বার আসনে বিএনপির অনুপস্থিতিতে হাসনাত আব্দুল্লাহর জয়ের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে এই দুটি আসনে বিএনপির নির্বাচনী ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারায়। আগামী ২০ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর এই আসনগুলোর চূড়ান্ত নির্বাচনী চিত্র স্পষ্ট হবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন