ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
শেখ রনদ সিমান্ত, বিশেষ প্রতিনিধি (রংপুর): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরের সীমান্ত জেলা লালমনিরহাটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নীরব বিস্ফোরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রকাশ্যে পরিস্থিতি শান্ত মনে হলেও ভেতরে ভেতরে ভোটের পুরোনো সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যাচ্ছে। জেলার তিনটি সংসদীয় আসন লালমনিরহাট-১, ২ ও ৩ ঘিরে মাঠের রাজনীতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় পর বড় দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আবহ তৈরি হওয়ায় ভোটারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই লালমনিরহাটে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে। গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহরের হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে এখন মূল আলোচনার বিষয়—কার দখলে যাবে লালমনিরহাটের সংসদীয় আসনগুলো। দীর্ঘদিনের অবহেলিত তিস্তা নদী প্রকল্প, পানির ন্যায্য হিস্যা, নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া মানুষের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের অভাব এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রধান দাবি হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে তিস্তা তীরের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিরসনে প্রার্থীরা কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই জনমত দানা বাঁধছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের শক্তিশালী ভিত্তি থাকলেও ভোট ভাগাভাগির সমীকরণ এখানে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। এ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে মো. হাসান রাজিব প্রধানকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনে বিএনপি ও অন্যান্য সমমনা দলগুলোর মধ্যে কৃষক ও সাধারণ ভোটারদের মন জয়ের লড়াই চলছে। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসন। এখানে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলুর বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির মো. আবু তাহেরের প্রার্থিতা একটি ত্রিমুখী বা দ্বিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এখানে নিজেদের অবস্থান সংহত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের সংখ্যা জেলাজুড়ে একটি বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জেলার প্রায় সাড়ে ১১ লাখ ভোটারের মধ্যে বড় একটি অংশই নতুন প্রজন্মের, যারা উন্নয়নের গৎবাঁধা প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ রাজনীতির পক্ষপাতী। তরুণদের এই প্রত্যাশা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব প্রচলিত রাজনীতির ছক ভেঙে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, লালমনিরহাটের নির্বাচনী ডামাডোল ততই স্পষ্ট হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই 'নীরব বিস্ফোরণ' ব্যালট পেপারে কী ফল নিয়ে আসে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ