ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর: জামালপুরের বকশীগঞ্জে একটি বিস্ফোরক মামলার চার্জশিট থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের তিন হেভিওয়েট নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় উপজেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। মামলার বাদী গুরুতর অসুস্থ থাকার সুযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও তৎকালীন ওসির যোগসাজশে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে তাদের নাম কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সচেতন মহল।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর বকশীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ কয়েকটি ধারায় মামলাটি দায়ের করেন মেরুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আনিছুর রহমান। মামলায় ১৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর আদালতে ১২৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। কিন্তু রহস্যজনকভাবে চার্জশিট থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন সাকা, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী এবং স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. অনিল কুমার ধরসহ ১১ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম প্রিন্স বলেন, যারা বিগত ১৭ বছর আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে এবং যারা আওয়ামী লীগের বড় বড় ‘রাঘব বোয়াল’, তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে পুলিশ পরিকল্পিতভাবে চার্জশিট থেকে নাম কেটে দিয়েছে। আমরা এই বিতর্কিত চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করছি এবং বাদ পড়া আসামিদের পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি। একই সূরে জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদ আহাম্মেদ রাজু বলেন, জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা হিসেবে আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। সাখাওয়াত হোসেন সাকার মতো প্রভাবশালী নেতার নাম বাদ পড়া মানেই হলো আর্থিক লেনদেনের প্রতিফলন। আমরা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক শাস্তির দাবি করছি।
এদিকে মামলার বাদী আনিছুর রহমানের ছেলে রবিন জানান, তার বাবা স্ট্রোক করে বর্তমানে কথা বলার শক্তি হারিয়েছেন। তিনি অসুস্থ থাকায় মামলার বিষয়ে কোনো তদারকি করতে পারছেন না। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বকশীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মনজুরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের আহাম্মেদও একই দাবি করে জানান, তদন্তের ভিত্তিতেই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা এই তদন্ত প্রক্রিয়াকে ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ