কাশ্মীরে মসজিদকেন্দ্রিক নজরদারি, ধর্মীয় জীবনে ভয়

কাশ্মীরে মসজিদকেন্দ্রিক নজরদারি, ধর্মীয় জীবনে ভয়

কাশ্মীরে মসজিদকেন্দ্রিক নজরদারি, ধর্মীয় জীবনে ভয়

শ্রীনগরের এক শীতল জানুয়ারির দুপুরে জোহরের নামাজ শেষে মসজিদের ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা ৬৫ বছর বয়সী আবদুল রশিদের হাতে কয়েক পাতার একটি ফরম নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় পুলিশের পাঠানো ওই ফরমে মসজিদের সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের আধার নম্বর, মোবাইলের আইএমইআই নম্বর এবং পরিবারের ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়েছে—যা আগে কখনও ঘটেনি বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি ভারত-শাসিত কাশ্মীরে পুলিশ মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। এতে মসজিদের মাজহাব, জমির মালিকানা, ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও কমিটির সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয়দের কাছে এটি প্রশাসনিক সমীক্ষার চেয়ে ধর্মীয় স্থানে সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

২০১৯ সালে বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর অঞ্চলটির আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই অঞ্চলে মসজিদ কেবল উপাসনালয় নয়, সামাজিক জীবনের কেন্দ্রও। সমালোচকদের মতে, এই নজরদারি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকারের পরিপন্থি।

ইসলামি সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের প্রোফাইলিং ইমামদের বক্তব্য ও ধর্মীয় চর্চায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। অনেকের মতে, এটি বর্তমান নিরাপত্তার চেয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি। ফলে মসজিদের ভেতর ভয় ঢুকে পড়লে, কাশ্মীরের সামাজিক ও ধর্মীয় হৃদয়টাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বয়োজ্যেষ্ঠ মুসল্লিরা।

মন্তব্য করুন