ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তীব্র দাবদাহে এসি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং নাগরিক জীবনের অপরিহার্য প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে গত কয়েক বছরে রাজধানীসহ সারা দেশে এসি বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তাতে এই যন্ত্রটি এখন অনেকের কাছেই প্রাণঘাতী এক আতঙ্কের নাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি নিজে বিপজ্জনক নয়; বরং আমাদের অবহেলা, নিম্নমানের বৈদ্যুতিক অবকাঠামো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই ঘটছে এসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ: বাংলাদেশে এসি দুর্ঘটনার মূলে রয়েছে পদ্ধতিগত কিছু সমস্যা। অনেক পুরোনো ভবনে দুর্বল তার ব্যবহার করা হয়, যা এসির মতো উচ্চক্ষমতার যন্ত্রের লোড নিতে পারে না। এছাড়া এসির জন্য আলাদা সার্কিট বা এমসিবি (MCB) লাইন না থাকা এবং সাধারণ সকেটে কানেকশন দেওয়া বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি করে। ভোল্টেজের ঘন ঘন ওঠানামা এসির অভ্যন্তরীণ সার্কিটকে ক্ষতিগ্রস্ত করে স্পার্ক তৈরি করতে পারে। ফিল্টারে জমে থাকা ধুলাবালি তাপ আটকে যন্ত্রের ভেতর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা আগুনের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। এছাড়া আউটডোর ইউনিট বদ্ধ স্থানে বা সরাসরি কড়া রোদে রাখলে কম্প্রেসারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
দুর্ঘটনার আগে সতর্ক সংকেত: যেকোনো বড় দুর্ঘটনার আগে এসি কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ প্রকাশ করে। যদি এসি থেকে পোড়া গন্ধ বের হয়, অস্বাভাবিক শব্দ বা কম্পন অনুভূত হয়, বারবার সার্কিট ব্রেকার ট্রিপ করে কিংবা এসির ভেতর আলো ঝলকানি দেখা যায়—তবে বুঝতে হবে বড় কোনো বিপদ আসন্ন। এই সংকেতগুলো উপেক্ষা করা মানেই মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো।
বাঁচার উপায় ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা:
সঠিক ইনস্টলেশন: সস্তায় কাজ না সেরে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।
আলাদা সার্কিট ও তার: এসির জন্য অবশ্যই উচ্চমানের কপার তার এবং আলাদা সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করতে হবে।
ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার: বিদ্যুতের ওঠানামা থেকে রক্ষা পেতে ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা এখন বিলাসিতা নয়, বরং অনিবার্য নিরাপত্তা।
নিয়মিত সার্ভিসিং: ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর পূর্ণাঙ্গ সার্ভিসিং করানো জরুরি।
আউটডোর ইউনিটের অবস্থান: আউটডোর ইউনিট সবসময় খোলা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে বসাতে হবে।
অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া: টানা দীর্ঘসময় এসি চালানো এবং সবসময় ১৬ বা ১৮ ডিগ্রির মতো অত্যন্ত কম তাপমাত্রা সেট করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, মানুষের সচেতনতা ছাড়া নিরাপত্তা অসম্ভব। আমাদের ‘কিছু হবে না’ মানসিকতা পরিহার করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলেই এসির এই ‘ভয়ানক থাবা’ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ