নরসিংদীতে জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি জামায়াত প্রার্থীরা

নরসিংদীতে জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি জামায়াত প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (পলাশ) ও নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে জোটগত সমঝোতার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজেদের প্রার্থিতা বজায় রেখেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীরা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন অতিবাহিত হলেও তারা নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়াননি। এর মধ্যে পলাশ আসনের প্রার্থীকে তার নিজ বাসভবনে কর্মী-সমর্থকরা অবরুদ্ধ করে রাখায় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি উপাধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসাইন। নির্বাচনী জোট গঠনের পর আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার তুষারকে ছেড়ে দেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত হয়। তবে শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন জামায়াতের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। এর ধারাবাহিকতায় প্রত্যাহারের শেষ দিনে মো. আমজাদ হোসাইনকে তার নিজ বাসভবনে আটকে রাখেন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে সক্ষম হননি।

অন্যদিকে, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনেও ইসলামী দলগুলোর জোটগত ঐক্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই আসনে ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ রাকীবুল ইসলামকে (রিকশা মার্কা) চূড়ান্ত করার কথা ছিল। তবে আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান কাউসার (দাঁড়িপাল্লা) শেষ সময় পর্যন্ত তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় জোটের একক প্রার্থীর বিষয়টি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে শিবপুর আসনে এখন জামায়াত প্রার্থীর পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ওয়ায়েজ হোসেন ভূঁইয়া (হাতপাখা) এবং খেলাফত মজলিসের মাওলানা মুহাম্মদ রাকীবুল ইসলাম নির্বাচনী লড়াইয়ে বহাল রয়েছেন।

নির্বাচনী সমঝোতার বাইরে গিয়ে দলীয় প্রার্থীদের এই অনড় অবস্থানের বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। আসন ভাগাভাগি নিয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পরও স্থানীয় পর্যায়ে এই জটিলতা রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পলাশ আসনে জোটের প্রার্থী গোলাম সারোয়ার তুষারের জন্য জামায়াত প্রার্থীর এই অবস্থান বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন