যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই ওমানে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই ওমানে পরোক্ষ আলোচনায় ইরান–যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা ও চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওমানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার উচ্চপর্যায়ের পরোক্ষ আলোচনায় বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটানোই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। তবে আলোচনার পরিধি বাড়ানো নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান কূটনৈতিক অগ্রগতিকে জটিল করে তুলেছে এবং নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, আলোচনা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। তবে ওমানের মাধ্যমে তেহরানের দাবিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন প্রধান আলোচক ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের পর এই পরোক্ষ আলোচনা শুরু হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার জানান, ওয়াশিংটন শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন এবং দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করতে চায়।

তবে ইরান এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের অবস্থান হলো—ওমানের রাজধানী মাসকাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে আলোচনা কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। আলোচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও অংশ নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ইরানের পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি তেহরানের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ট্রাম্প এই সামরিক তৎপরতাকে ‘বিশাল নৌবহর’ হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ‘খারাপ কিছু’ ঘটতে পারে।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার বলেন, আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কূটনীতির বাইরে আরও বিকল্প রয়েছে—এই বার্তা ইরানকে দেওয়া হয়েছে।

এর পাল্টা জবাবে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেকোনো সামরিক হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে থাকবে। আলোচনার আগমুহূর্তে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ‘খুররামশাহর-৪’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের দৃশ্য প্রচার করে নিজেদের কঠোর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তবে রয়টার্সের তথ্যমতে, পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে তেহরান কিছুটা নমনীয়তা দেখাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর এবং একটি কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার আওতায় শূন্য সমৃদ্ধকরণের প্রস্তাব।

মন্তব্য করুন