ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ শহর সংলগ্ন বনবাড়িয়া এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন পয়ঃবর্জ্য ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের নির্মাণকাজে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের প্রকৃত অগ্রগতি নগণ্য হলেও মোটা অঙ্কের বিল তুলে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)-এর অর্থায়নে এবং ডিপিএইচই-এর তত্ত্বাবধানে “বাংলাদেশের ১০টি অগ্রাধিকারমূলক শহরে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমন্বিত স্যানিটেশন ও হাইজিন প্রকল্প”-এর আওতায় সিরাজগঞ্জে এই কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ২৯৬ টাকা। ঢাকাভিত্তিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নূর অ্যান্ড কোং’-কে এই কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, এক বছরের বেশি সময় পার হলেও কাজের প্রকৃত অগ্রগতি মাত্র ৫ থেকে ৮ শতাংশ। অথচ রহস্যজনকভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে চুক্তি মূল্যের প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থ উত্তোলন করে নিয়েছে।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ-কড্ডা সড়কের পাশে নামমাত্র একটি গেট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। একটি অফিস কক্ষসহ কয়েকটি অবকাঠামো গড়ে তোলা হলেও তদারকির অভাবে সেগুলো এখন শ্রীহীন। ল্যাট্রিনগুলোর দরজা-জানালা নেই, কোথাও তালাও লাগানো নেই। তদারকি না থাকায় স্থানীয়রা অনেক সরঞ্জাম খুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিদর্শনের সময় সেখানে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা শ্রমিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং যন্ত্রপাতিগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ডিপিএইচই সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান প্রকল্পের ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রের তথ্য ও মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দপ্তরের একজন সহকারী প্রকৌশলী জানান, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করাচ্ছে এবং তাদের কাজের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্তমানে পৌরসভার বর্জ্য সেখানে অপরিকল্পিতভাবে ফেলার কারণে তীব্র দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই প্রকল্পের দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ