বীরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর দানিয়ুল হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

বীরগঞ্জে চাঞ্চল্যকর দানিয়ুল হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন

তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বীরগঞ্জ থানার চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস দানিয়ুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী, তার পরকীয়া প্রেমিক এবং ভাড়াতে খুনি চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আনোয়ার হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশ প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্তদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাটে শনাক্ত করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি ডিবির একটি টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করলেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ১৬ জানুয়ারি র‍্যাব-০৬-এর সহযোগিতায় খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী আবু বক্কর ওরফে বাদশাকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়। বাদশার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুর সদরের উত্তর বালুবাড়ী থেকে শাহ আলম কল্লোল (৫৬) এবং বীরগঞ্জের আরজি চৌপুকুরিয়া গ্রাম থেকে নিহতের স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপিকে (৪১) গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে জানা গেছে, নিহত দানিয়ুল ইসলামের স্ত্রী পপি ও তার প্রেমিক শাহ আলম কল্লোল পরস্পর যোগসাজশে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে পেশাদার খুনি ভাড়া করেন। ৩ ডিসেম্বর জিন্দাপীর মেলা চলাকালীন জনসমাগমের সুযোগে হত্যার পরিকল্পনা করা হলেও পরবর্তীতে ১৩ জানুয়ারি ভোররাতে তা কার্যকর করা হয়। পপি নিজেই হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি করেন এবং বাসার ভেতরের পরিবেশের ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কল্লোলকে পাঠান। পরে কল্লোল খুনি বাদশাকে বাসার চাবি ও ভিডিও বুঝিয়ে দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৩ জানুয়ারি ভোররাতে খুনিরা বাসায় ঢুকে দানিয়ুলকে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাবিটি বাসার পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত শাহ আলম কল্লোল বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

মন্তব্য করুন