দিনাজপুরে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন: দাম কম থাকায় কৃষকের হতাশা

দিনাজপুরে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন: দাম কম থাকায় কৃষকের হতাশা

সাহারুল ইসলাম, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় চলতি মৌসুমে শীতকালীন শাক-সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কৃষকরা শীতকালীন সবজি চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এবং ইতিধ্যেই পাইকারি বাজারে আগাম সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, কম দামে টাটকা সবজি কিনতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। এই অঞ্চলের উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন প্রতিদিন ট্রাকযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘোড়াঘাট পৌর শহরের বাগেরহাট, ওসমানপুর ও রানীগঞ্জ পাইকারি বাজারগুলো প্রতিদিন ভোরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। ভোর হওয়ার সাথে সাথেই কৃষকরা তাদের জমি থেকে সংগৃহীত টাটকা ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মুলা, করলা ও পালংশাকসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি বাজারে নিয়ে আসেন। উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ঢাকা ও অন্যান্য অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই বাজারগুলোতে ভিড় করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার সবজির মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন এই বাজারগুলো থেকে অন্তত ১০ থেকে ১২টি মিনি ট্রাকে করে সবজি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে, যার বাজারমূল্য দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা।

তবে ভালো ফলন হওয়া সত্ত্বেও সার ও কীটনাশকের চড়া মূল্যের তুলনায় সবজির বাজারদর কম হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, বাজারে পাইকারি দর সেই তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি সবজি যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ তোলাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন আশানুরূপ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান জানান, এই এলাকার মাটি সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বর্তমানে হাটে আগাম জাতের বিভিন্ন শীতকালীন সবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে। কৃষকরা যাতে সবজি চাষে লাভবান হতে পারেন এবং সঠিক পদ্ধতিতে আবাদ করতে পারেন, সেজন্য কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত কারিগরি সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে বাজার দর স্থিতিশীল হলে কৃষকরা তাদের পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পাবেন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন