ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সলঙ্গা প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম সলঙ্গা হাটের হাজার কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি গত প্রায় চার দশক ধরে স্থানীয় ভূমিদস্যুদের দখলে রয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে পরিচিত এবং ঐতিহাসিক ‘সলঙ্গা বিদ্রোহের’ স্মৃতিবিজড়িত এই হাটের জমি উদ্ধারে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই হাটের পেরিফেরিভুক্ত জমির একটি বড় অংশ এখন প্রভাবশালীদের দখলে। স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং স্থানীয় ভূমি অফিসের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে হাটের জায়গা নিজেদের নামে করে নিয়েছে দখলদাররা। তথ্যমতে, হাটের পেরিফেরির প্রায় ৪৪ শতাংশ জমি ইতিমধ্যে বেদখল হয়ে গেছে এবং অবশিষ্টাংশেও গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় অবৈধ স্থাপনা। বর্তমানে ধানহাটের শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট বানিয়ে ভাড়া আদায় করছেন সলঙ্গা থানা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি জেহাদ গং ও থানা আওয়ামী লীগের সদস্য মৃদুল কুমার কুণ্ডুসহ প্রভাবশালীরা। স্থানীয় গরুহাটের জায়গাও জবরদখল করে রেখেছেন শুকুর মণ্ডল, দুলাল কুণ্ডু ও আব্দুল জলিলের মতো ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা ও ঘুরকা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভরমোহনী মৌজায় অবস্থিত এই হাটের পেরিফেরিভুক্ত জমির পরিমাণ এসএ রেকর্ডে ৯.৯৪ একর থাকলেও আরএস রেকর্ডে তা ৫.৬৭ একরে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এই মৌজায় প্রায় ৩৪.৭১ একর খাস খতিয়ানভুক্ত জমি রয়েছে, যার পুরোটাই বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের কবলে। অভিযোগ রয়েছে, আশির দশকে আকবর মাস্টার ও আনোয়ার আমিনের মতো প্রভাবশালীরা নিজেদের ভূমিহীন সাজিয়ে কিংবা হাটের জমিকে ফসলি জমি দেখিয়ে পত্তনী নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এসব জমি একাধিকবার হাতবদল ও কেনাবেচা হয়েছে। বর্তমানে জিল্লুর সরকার, আব্দুল হান্নান, কালিপদ কুণ্ডু, লাবু তালুকদার ও সাবেক এমপি আব্দুল হামিদ তালুকদারসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি ও তাদের ওয়ারিশগণ এই সম্পত্তি ভোগদখল করছেন।
দখলের কারণে সলঙ্গা হাটের রাস্তাঘাট সংকুচিত হয়ে পড়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এখন এই হাট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। সম্প্রতি রায়গঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের এক জরিপে ২১৪ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা করা হলেও উচ্ছেদ অভিযান অজ্ঞাত কারণে থমকে আছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা আইয়ুব আলীসহ এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সরকারি এই সম্পত্তি উদ্ধার করা হোক। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো অবৈধ দখলদারের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি বজায় রাখা হবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ