ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মেহেদী মাছুম, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: প্রশাসনের দফায় দফায় অভিযান, জরিমানা ও কঠোর সতর্কতার পরও লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ফসলি জমির মাটি কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। দিনের পর দিন উর্বর কৃষিজমির ওপরের স্তর (টপ সয়েল) কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে একসময়ের উর্বর ধানক্ষেতগুলো এখন বিশাল বিশাল গর্ত ও জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে গর্তের গভীরতা ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষির জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গভীর রাতে ভেকু মেশিন ও ট্রাক ব্যবহার করে ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান শেষ হলেই প্রভাবশালী চক্রটি আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে অনেক এলাকায় ফসলের বদলে মাঠে শুধু বড় বড় গর্ত আর জমে থাকা পানি দেখা যাচ্ছে। ইটভাটার মাটি বহনে উপজেলার ছোট-বড় সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক মাটিবাহী ট্রাক ও লক্কড়-ঝক্কড় ট্রাক্টর। এসব যানবাহনের কারণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি মারাত্মক ধুলিকণার সৃষ্টি হচ্ছে, যা পথচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া মোল্লাকান্দি বিলে ‘মন্ততাজ ব্রিকফিল্ড’ গত এক সপ্তাহ ধরে দুটি ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি সংগ্রহ করছে। এতে ওই এলাকায় বিশাল কৃত্রিম জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কিছু অসাধু ব্যক্তি এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জোরপূর্বক জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে কৃষকদের নানাভাবে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে মন্ততাজ ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার মো. তৌয়ব জানান, ইটভাটার প্রধান কাঁচামাল মাটি হওয়ায় তারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাটি সংগ্রহ করেন। আগে থেকেই এসব জমি থেকে মাটি বিক্রি করা হচ্ছিল বলে তিনি দাবি করেন। অন্যদিকে, রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, মাটি কাটার খবর পাওয়া মাত্রই দিন-রাত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেককে জরিমানা ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে যারা এই কাজ করছে, তাদের দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ