টেকনাফে বিজিবি-চোরাকারবারি গোলাগুলি: ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

টেকনাফে বিজিবি-চোরাকারবারি গোলাগুলি: ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

জিয়াবুল হক, টেকনাফ: কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদীর পৃথক দুটি পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার অভিযান চলাকালে চোরাকারবারিদের সাথে বিজিবি সদস্যদের দীর্ঘ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) উখিয়া ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিজিবি জানায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের হ্নীলা বিওপি সংলগ্ন চৌধুরীপাড়া স্লুইচ গেইট এলাকায় অবস্থান নেয় বিজিবির রামু সেক্টর, উখিয়া ও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ টহল দল। ৮-১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মিয়ানমার সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এসময় সশস্ত্র চোরাকারবারিরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী নাফ নদী ও পার্শ্ববর্তী কেওড়া জঙ্গল এলাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়। একপর্যায়ে বিজিবির শক্ত অবস্থানের মুখে চোরাকারবারিরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং নাফ নদী ও পার্শ্ববর্তী গ্রামে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে ওই এলাকায় একটি ডাকাত দল ইয়াবা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গোলাগুলি শুরু করলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের সহায়তা নিয়ে বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নাফ নদী ও সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একক অভিযানে ইয়াবা উদ্ধারের এটিই সর্বোচ্চ বড় চালান। এর আগে সোমবার রাতে হোয়াইক্যং বিওপি সংলগ্ন মনিরঘোনা এলাকায় অপর এক অভিযানে আরও ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে উখিয়া ব্যাটালিয়ন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানান, উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও যে কোনো ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন