হুইপ দুলুকে সম্মাননা: অপপ্রচারের প্রতিবাদ প্রশাসনের

হুইপ দুলুকে সম্মাননা: অপপ্রচারের প্রতিবাদ প্রশাসনের

আরিফুল ইসলাম, নাটোর: নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে 'কোট-পিন' উপহার দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যকে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন আয়োজক, প্রশাসন ও স্থানীয় সচেতন মহল।

গত শনিবার বিকেলে শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে আয়োজক কমিটি তাঁকে একটি কোট-পিন উপহার দেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে এই সম্মাননা প্রদান নিয়ে বিতর্ক তোলা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খাঁন বলেন, “আমি নিজে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছি। এটি একটি স্বাভাবিক, আনুষ্ঠানিক ও সৌজন্যমূলক সম্মাননা প্রদান ছিল। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিতর্কের অবকাশ নেই।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইয়াসিন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অতিথিদের সম্মান জানানো আমাদের প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি। একটি স্বাভাবিক বিষয়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী শিমু হাসান ও ফয়সাল আহমেদ জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হলেও পরে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার দেখে তাঁরা বিস্মিত হয়েছেন। অভিভাবক পরেশ দাস বলেন, বিদ্যালয়ে অতিথিদের সম্মান জানানো নতুন কিছু নয়, এটিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা অযুক্তিক।

নলডাঙ্গা থানার ওসি নূরের আলম জানান, পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ। সেখানে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি।

উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীশচন্দ্র বিদ্যানিকেতন নাটোর অঞ্চলের একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠায় হুইপ দুলুর পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচারের প্রবণতার কারণেই এমন বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন