তেলের দাম বাড়লেও তীব্র সরবরাহ সংকটে রাজধানী

তেলের দাম বাড়লেও তীব্র সরবরাহ সংকটে রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হলেও রাজধানীতে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বনশ্রী ফিলিং স্টেশন লিমিটেড, হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সকাল থেকেই বনশ্রী ও হাজিপাড়া এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ ছিল। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে; দুপুরে জ্বালানি বোঝাই গাড়ি পৌঁছালে পুনরায় বিক্রি শুরু হতে পারে। হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পাম্প বন্ধ থাকলেও তেল নেওয়ার আশায় শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এই সারিতে ভোর থেকেই অপেক্ষা করছেন চালকরা। আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, তেল আসলে যেন আগে নিতে পারেন, সেই আশায় তিনি অপেক্ষা করছেন।

অন্যদিকে রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশনে তেল বিক্রি চললেও সেখানে চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দীর্ঘ সারির কারণে মূল সড়কেও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তারা চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে ‘রেশনিং’ পদ্ধতিতে সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। মেজবা উদ্দিন নামে এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার দাম বাড়ালো সিন্ডিকেট ভাঙতে, কিন্তু তেল যদি না-ই পাওয়া যায় তবে এই দাম বাড়িয়ে লাভ কী?

তবে অনেক গ্রাহক মনে করছেন, দাম বাড়ার ফলে মজুতদারদের দৌরাত্ম্য কমবে। সাইফুল নামের এক চালক আশা প্রকাশ করেন যে, দুই-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, শনিবার (১৮ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দামে ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে এই দাম সমন্বয় করা হলেও সাধারণ গ্রাহকরা দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন