ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন, কক্সবাজার: টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে ভয়াবহ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন ৯ জন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন বাংলাদেশি এবং ৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক।
বেঁচে ফেরা কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা তরুণ রফিক জানান, গত ৪ঠা এপ্রিল প্রায় ৩০০ জন আরোহী নিয়ে ট্রলারটি টেকনাফ থেকে রওনা হয়। ৮ই এপ্রিল সকালে আন্দামান সাগরে ট্রলারটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়ার আগে থেকেই আরোহীদের ওপর চলত অমানুষিক নির্যাতন। মাছ রাখার কোল্ড স্টোরেজে গাদাগাদি করে লুকিয়ে রাখা হতো তাঁদের। রফিক বলেন, "ডুবে যাওয়ার আগেই ট্রলারে ৩০ জন মারা যান। মাঝি বলেছিল লাশগুলো সাগরে ফেলে দিতে। এর কিছুক্ষণ পরই পুরো ট্রলারটি ডুবে যায়।"
উদ্ধার হওয়া ৯ জন টানা দুই দিন সাগরের পানিতে ড্রাম ও কাঠের টুকরো আঁকড়ে ধরে ভাসছিলেন। ৯ই এপ্রিল দুপুরে বাংলাদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ 'এমটি মেঘনা প্রাইড' তাঁদের ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাঁদের উদ্ধার করে গভীর সমুদ্রে টহলরত কোস্টগার্ডের জাহাজ 'মনসুর আলী'র কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে ট্রলারটি ডুবে যায় বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া ৩ রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে এবং ৬ বাংলাদেশিকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, উদ্ধার হওয়া ৬ বাংলাদেশির মধ্যে ৪ জনই ডুবে যাওয়া ট্রলারের পাচারকারী চক্রের সদস্য বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় কোস্টগার্ড কর্মকর্তা এম শামসুল আলম মিয়া বাদী হয়ে ১০-১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করেছেন। পাচারকারীরা ভালো চাকরি ও সুন্দর ভবিষ্যতের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে এবং নারীদের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই মরণযাত্রায় প্রলুব্ধ করেছিল।
এ.আই.এল/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ