মোবাইল ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন: দাওরায়ে হাদিসের সব ছাত্র বহিষ্কার

মোবাইল ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন: দাওরায়ে হাদিসের সব ছাত্র বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে টঙ্গীর প্রখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া নূরিয়া মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীকে একযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

রোববার (১৯ এপ্রিল) মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের এই কঠোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিক্ষক মাওলানা শফী কাসেমী নদভী।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ মোবাইল ফোন উদ্ধারে মাদ্রাসায় তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই বিষয়টি টের পেয়ে ফোনগুলো সরিয়ে ফেলে। তল্লাশিতে অন্যান্য জামাতের ছাত্রদের কাছে মোবাইল পাওয়া গেলেও তাদের ইতিবাচক আচরণের জন্য ছাড় দেওয়া হয়। তবে দাওরার শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দাওরার শিক্ষার্থীরা গত শনিবার মাগরিবের পর বুখারী শরীফের পাঠ (দরস) বর্জন করেন। তাঁরা দারুল হাদিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন দাবিতে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়।

মাওলানা শফী কাসেমী নদভী তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, কওমী মাদ্রাসা অঙ্গনে এটি একটি নজিরবিহীন ও কঠিন সিদ্ধান্ত। তিনি দাবি করেন, এই শিক্ষার্থী দলটি বিগত বছরেও প্রতিষ্ঠানের নিয়মবহির্ভূত আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, যা অন্যান্য সাধারণ ছাত্রদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বারবার তাঁদের ভুল স্বীকার করার সুযোগ দেওয়া হলেও কেউ ক্ষমা প্রার্থনা না করায় সম্মিলিত সম্মতির ভিত্তিতে এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মতে, দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হলো বিশুদ্ধ ইলম ও আদর্শ চরিত্র গঠন। শিক্ষার্থীদের অবাধ্যতা ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ রোধে এমন সিদ্ধান্ত অপরিহার্য ছিল। দাওরা স্তরের সব ছাত্রকে একসঙ্গে বহিষ্কারের এই ঘটনাটি কওমী অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন