সেচ সংকটে ফেটেছে মাটি, ধানের লাভ নিয়ে শঙ্কায় পটুয়াখালীর কৃষক

সেচ সংকটে ফেটেছে মাটি, ধানের লাভ নিয়ে শঙ্কায় পটুয়াখালীর কৃষক

জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে ডিজেল সংকটের কারণে বোরো ধানের জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে পারছেন না চাষিরা। তীব্র গরমে সময়মতো পানি না পাওয়ায় অনেক জমিতে ধানের গাছের গোড়া শুকিয়ে যাচ্ছে এবং দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন রোগবালাই। এতে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন উপকূলীয় এই জেলার হাজারো কৃষক।

মাঠপর্যায়ের চিত্র: বুধবার (২২ এপ্রিল) পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া, মাদারবুনিয়া, বড়বিঘাই, ছোটবিঘাই ও আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সেচের অভাবে অনেক জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও ধানের গাছ শুকিয়ে বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে। পটুয়াখালী সদর ছাড়াও গলাচিপা, দশমিনা, মির্জাগঞ্জ, বাউফল ও কলাপাড়া উপজেলাতেও বোরো চাষিরা একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।

কৃষকের হাহাকার: সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নের ৭৬ বছর বয়সী কৃষক মো. বেল্লাল প্যাদা তাঁর ফেটে যাওয়া খেত দেখিয়ে আক্ষেপ করে বলেন, "তেল না পাইয়া তেমন সেচ দিতে পারি নাই। ধান নষ্ট হইয়া গেছে, শুকাইয়া গেছে। বীজ, ওষুধ আর সার কিন্না যে টাকা খরচ করছি, আমার মনে হয় সেই টাকা উঠবে না। পরিশ্রম গ্যাছে ফাও।"

সার ও জ্বালানির চড়া দাম: ডিজেল সংকটের পাশাপাশি সারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খুচরা দোকানদাররা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে সার বিক্রি করছেন। একদিকে পানির অভাব, অন্যদিকে উৎপাদনের উচ্চ খরচ—এই দুই চাপে পড়ে এবার লাভ তো দূরে থাক, মূল পুঁজি তোলা নিয়েই শঙ্কিত চাষিরা।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এবং সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পটুয়াখালীতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন