মধ্যরাতে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপেছে দেশের উত্তরাঞ্চল

মধ্যরাতে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপেছে দেশের উত্তরাঞ্চল

মধ্যরাতে মৃদু ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের সিকিম অঞ্চলে পরপর কয়েকটি ভূমিকম্পের প্রভাবে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুরসহ আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। এতে আতঙ্কে অনেক মানুষের ঘুম ভেঙে যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে। গোয়ালপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাগর, সুমন ও নীরব জানান, রাতের নীরবতায় হঠাৎ কম্পন অনুভূত হওয়ায় প্রথমে তারা বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি। পরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত হন। আতঙ্কে কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই একই সময়ে কম্পন টের পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৯ মিনিট থেকে ২টা ৩ মিনিটের মধ্যে সিকিম অঞ্চলে পরপর তিন দফা ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে রাত ১টা ৩৯ মিনিটে ৪ দশমিক ৫, ১টা ৪৫ মিনিটে ৩ দশমিক ৫ এবং ২টা ৩ মিনিটে ২ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। একটি ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল গ্যাংটক এলাকায়, অন্য দুটি উৎপত্তিস্থল গেয়ালশিং ও মঙ্গন অঞ্চলে।

এ ছাড়া এই ভূমিকম্পের প্রভাব রংপুর, নীলফামারী, রাজশাহী, নওগাঁ, পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় অনুভূত হয়েছে।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব অল্প সময়ের হওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা জানান, সিকিম ও পার্শ্ববর্তী হিমালয় অঞ্চল একটি ভূমিকম্পপ্রবণ ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত। বড় কম্পনের পর ধারাবাহিকভাবে ছোট আকারের আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন