ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সনজিত কর্মকার, চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় রোটা ভাইরাসের সংক্রমণে ডায়রিয়ার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। বেড সংকটের কারণে অনেক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। গত ১০ দিনে সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে প্রায় ৪০০ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩২ জন। বর্তমানে শতাধিক রোগী ভর্তি থাকলেও জরুরি ও আন্তঃবিভাগ থেকে গত কয়েক দিনে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও প্রায় ৪ শতাধিক মানুষ। এর আগে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মাত্র ৯ দিনে ৩৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শয্যা না পেয়ে রোগীরা মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করছেন। সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের চায়না খাতুন জানান, তার ২ বছরের শিশুর ডায়রিয়া শুরু হলে হাসপাতালে আনেন, কিন্তু বেড না পেয়ে দীর্ঘক্ষণ বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হয়েছে। অন্যদিকে, বিপুল সংখ্যক এই রোগী সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্সরা। বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে মাত্র একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স, কয়েকজন শিক্ষানবিশ ও একজন স্বেচ্ছাসেবী দায়িত্ব পালন করছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস জানান, শিশুদের ডায়রিয়ার প্রধান কারণ রোটা ভাইরাস। তিনি বলেন, “শুধু ডায়রিয়া হলে বাড়িতে চিকিৎসা সম্ভব, তবে বমি বা পানিশূন্যতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে।” তিনি আরও জানান, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের কোনো সংকট নেই।
ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পেতে তিনি ফুটানো পানি পান করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের বুকের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ