তরুণ ঢেউ বনাম ঐতিহ্যের লড়াই: রংপুর–৪ আসনে বহুমুখী ভোটযুদ্ধ

তরুণ ঢেউ বনাম ঐতিহ্যের লড়াই: রংপুর–৪ আসনে বহুমুখী ভোটযুদ্ধ

হাবিবুর রহমান হাবিব, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর–৪ আসনটি দীর্ঘকাল আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত থাকলেও, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠের বাইরে থাকায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং নতুন রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে। সাথে রয়েছে বাম ও অন্যান্য দলের অংশগ্রহণ, যা এবারের নির্বাচনকে দিয়েছে বহুমুখী রূপ।

বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব এমদাদুল হক ভরসা তার পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছেন। তার পিতা শিল্পপতি রহিম উদ্দিন ভরসা ও চাচা করিম উদ্দিন ভরসার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভোটারদের মনে আজও অম্লান। কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা জানান, তিনি নির্বাচিত হলে অবহেলিত উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করবেন।

জাতীয় পার্টির আলহাজ্ব আবু নাসের শাহ মো. মাহাবুবার রহমান মাহবুব সংগঠনের দীর্ঘদিনের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে জোরদার প্রচারণা চালাচ্ছেন। তৃণমূলের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন অনুন্নত রাস্তাঘাট সংস্কার এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত করার। তার মতে, লাঙ্গলের ভোটাররা বরাবরের মতোই তাদের প্রতীকের প্রতি বিশ্বস্ত।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত মুখ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা আখতার হোসেনের ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের পেছনে রয়েছে চব্বিশের ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব। বিশেষ করে ৪৭ হাজার নতুন ভোটারের বড় একটি অংশ তরুণ এই প্রার্থীর দিকে ঝুঁকছে। আখতার হোসেনের মূল অঙ্গীকার হলো—সব সরকারি বরাদ্দের তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

মাঠে পিছিয়ে নেই অন্যান্য প্রার্থীরাও। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) থেকে কাঁচি প্রতীকে লড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী প্রগতি বর্মন তমা। তিনি কৃষি ও কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় (ডাব), স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাসার (হরিণ) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিকশা) প্রতীক নিয়ে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পীরগাছা ও কাউনিয়ায় এবার কেবল প্রতীক নয়, বরং নতুন বনাম পুরনোর লড়াই হবে। একদিকে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির দীর্ঘদিনের প্রভাব, অন্যদিকে এনসিপি-র মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক উত্থান—এই ত্রিমুখী লড়াই রংপুর–৪ আসনের বহু বছরের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে। ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটেই নির্ধারিত হবে কে হবেন এই জনপদের পরবর্তী কাণ্ডারি।

মন্তব্য করুন