রায়পুর সরকারি হাসপাতালে যন্ত্র থাকলেও চিকিৎসক নেই

রায়পুর সরকারি হাসপাতালে যন্ত্র থাকলেও চিকিৎসক নেই

মেহেদী মাছুম, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির কোনো ঘাটতি নেই। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের অভাবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালটিতে সিজারিয়ান অপারেশন ও আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে উপজেলার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে বাড়তি অর্থ খরচ করে তাদের বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে।

সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, অপারেশন থিয়েটারটি আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত থাকলেও গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকায় দীর্ঘ এক বছর কোনো প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। ফলে জরুরি প্রয়োজনে প্রসূতি রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হচ্ছে, যা অনেক গরিব পরিবারের জন্য আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অন্যদিকে, হাসপাতালে দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে সেগুলো বিকল হয়ে পড়ে আছে। যেখানে সরকারি হাসপাতালে মাত্র ২০০ টাকায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করার সুযোগ ছিল, সেখানে বর্তমানে রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ২০০৬ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও গত ২০ বছরে সেই অনুপাতে নতুন কোনো জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ২০৩টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯৩ জন। ৩১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে ১৭ জন থাকলেও ৭ জন রয়েছেন ডেপুটেশনে। বিশেষ করে অর্থোপেডিক, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, নাক-কান-গলা এবং হৃদরোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এছাড়া নার্স ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর তীব্র সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরতরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, জনবল সংকটের কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ ১৯ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে এক্স-রে সেবা চালু করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো টেকনিশিয়ান নিয়োগ হয়নি। বাধ্য হয়ে চিকিৎসকরা চাঁদা তুলে টেকনিশিয়ানের বেতন পরিশোধ করছেন। তিনি আরও জানান, গাইনি চিকিৎসকের শূন্যতা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন বিকল থাকায় সেবা দুটি ব্যাহত হচ্ছে, তবে মেশিন মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ লাখ মানুষের আস্থার এই হাসপাতালটি বর্তমানে জনবল সংকটে সেবা প্রদানের পরিবর্তে দুর্ভোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন