উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৪৬১ শেল্টারসহ মসজিদ ও স্কুল ভস্মীভূত

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৪৬১ শেল্টারসহ মসজিদ ও স্কুল ভস্মীভূত

তারেক হায়দার, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়ায় ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪৪৮টি বসতঘর বা শেল্টারসহ মসজিদ ও বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে উখিয়া পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকায় অবস্থিত ওই ক্যাম্পের ডি–৪ ব্লকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। কনকনে শীতের রাতে এই ঘটনায় বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার রোহিঙ্গা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডি-৪ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আনিস রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে গ্যাসের চুলায় পানি গরম করতে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় ধরে চুলা জ্বলতে থাকায় পাতিলের পানি শুকিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী প্লাস্টিক ও বাঁশের তৈরি শেল্টারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাত হওয়ায় এবং আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় মুহূর্তেই পুরো ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রোহিঙ্গারা প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন।

খবর পেয়ে উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরাও দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের কর্মীরা সেখানে পৌঁছান এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হন।

১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি ব্লকের হেড মাঝি মোহাম্মদ রিয়াজ জানান, অগ্নিকাণ্ডে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, আগুনে ৪৪৮টি ঘর ছাড়াও ১০টি স্কুল, একটি মাদরাসা এবং দুটি মসজিদ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক আর্থিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, শফিউল্লাহ কাটা ডি–৪ ব্লকে সংঘটিত এ ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার কাজ চলছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৬ ও ২৫ ডিসেম্বর উখিয়ার ৪ নম্বর এবং কুতুপালং ক্যাম্পে পৃথক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতাল ও বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন