বাল্যবিবাহ দিলে লাইসেন্স বাতিল: লালমনিরহাটে ত্রাণমন্ত্রী দুলু

বাল্যবিবাহ দিলে লাইসেন্স বাতিল: লালমনিরহাটে ত্রাণমন্ত্রী দুলু

মানজুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট: দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি বাল্যবিবাহকে সমাজের অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাল্যবিবাহ নিবন্ধনে কোনো প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে লালমনিরহাট সার্কিট হাউস হলরুমে জেলা প্রশাসন আয়োজিত নিবন্ধিত মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নিকাহ রেজিস্ট্রাররা উপস্থিত ছিলেন।

ত্রাণমন্ত্রী দুলু বলেন, "বাল্যবিবাহ একটি সুন্দর জীবনের শুরুতেই যবনিকা টেনে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে বয়স জালিয়াতি করে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করা হচ্ছে। যে নিকাহ রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন বা রেজিস্ট্রি হবে, তার বিরুদ্ধে শুধু মামলা নয়, বরং তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ স্থায়ীভাবে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।"

তিনি রেজিস্ট্রারদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন:

  • বিয়ের আগে বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে।

  • কোনো রাজনৈতিক চাপ বা প্রলোভনে পড়ে বাল্যবিবাহ নিবন্ধন করা যাবে না।

  • বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে তা রুখে দিতে হবে।

আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের প্রবণতা রোধে কাজী ও নিবন্ধকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, "পারিবারিক কলহ, বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং নৈতিকতার চর্চা কমে যাওয়ায় তালাকের হার বাড়ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুরা, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় সংকটে রূপ নিতে পারে। পারিবারিক বন্ধন টিকিয়ে রাখতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে আপনাদের এগিয়ে আসতে হবে।"

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনোনীতা দাস, নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি আমজাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন