সিরাজগঞ্জে শিশুদের হামের প্রাদুর্ভাব, আতঙ্কে অভিভাবকরা

সিরাজগঞ্জে শিশুদের হামের প্রাদুর্ভাব, আতঙ্কে অভিভাবকরা

জলিলুর রহমান জনি, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে নতুন করে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনে জেলায় অন্তত ৩৯ জন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ হাসপাতালের বেডে ব্যথায় ও শ্বাসকষ্টে কাতরাচ্ছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) সকালে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ২৯ মার্চ থেকে জেলায় হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির হিসাব রাখা শুরু হয়েছে। আজ সকাল পর্যন্ত ৩৯ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে ১৫ জন শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল ভিত্তিক তথ্যানুযায়ী:

  • শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১২ জন।

  • উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ১ জন।

  • বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ১ জন।

  • চৌহালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ১ জন।

সরেজমিনে দেখা যায়, আক্রান্ত শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, ঠান্ডা এবং পরবর্তীতে লালচে ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান রিয়াদ জানান, ভর্তি থাকা শিশুদের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশই হামের টিকা নেওয়ার আগেই আক্রান্ত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।

চিকিৎসাধীন এক শিশুর অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, "ছেলের প্রথমে জ্বর ও ঠান্ডা হয়, পরে সারা শরীরে গুটি দেখা দেয়। এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছে না, শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে।" অনেক অভিভাবক সময়মতো সঠিক ভ্যাকসিন না পাওয়ার অভিযোগও তুলেছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, "পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিশেষ ইউনিট চালু করা হয়েছে। আমরা নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।"

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির (EPI) আওতায় সঠিক সময়ে হামের টিকা নিশ্চিত করার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন