শেখ মুজিবের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি: মির্জা ফখরুল

শেখ মুজিবের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি: মির্জা ফখরুল

মোঃ ইউসুফ, হবিগঞ্জ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, কারণ সে সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনা এবং সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।”

শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঐতিহাসিক ‘তেলিয়াপাড়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলো থেকেই যুদ্ধকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করা এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রণকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে না ধরে তা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা ইতিহাস থেকে প্রকৃত বীরদের নাম মুছে দিতে চেয়েছে।” এসময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে “প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযানের ইঙ্গিত দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো—দলে কোনো অনিয়মকারী বা দুষ্ট মানুষের স্থান হবে না।” সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা শুধু সংস্কারের কথা বলি না, বরং তা বাস্তবে রূপ দেবো।”

মহাসচিব তার বক্তব্যে অবহেলিত চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব ও অস্তিত্ব। এর ইতিহাসকে কেউ খাটো করতে চাইলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”

হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:

  • মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান

  • প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ জি কে গউছ

  • হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল

  • হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন জীবন

  • আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ, পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তেলিয়াপাড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নির্মাণের জোর দাবি জানান।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন