জ্বালানি সংকটে টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত

জ্বালানি সংকটে টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত

সুমন ঘোষ, টাঙ্গাইল: তীব্র জ্বালানি সংকটের কবলে পড়েছে টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা এলাকায় অবস্থিত ‘টাঙ্গাইল পল্লী পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড’ (টিপিপিজিএল)। নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে উৎপাদন অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসায় স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের আউলটিয়া এলাকায় অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২২ মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৬ দশমিক ৭ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, সক্ষমতার মাত্র ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

এক্স ইনডেক্স এনার্জি লিমিটেড-এর সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৪টি 'বি ৩২:৪০ ভি১৬এএইচ রোলস রয়েস বার্গেন' ইঞ্জিন রয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় করতে বর্তমানে এর মধ্যে ২টি ইঞ্জিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বাকি ২টি ইঞ্জিন দিয়ে সীমিত পরিসরে উৎপাদন সচল রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া এই প্ল্যান্টটি ফার্নেস অয়েল (HFO) দ্বারা পরিচালিত। পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণে সরকার প্রতিদিন মাত্র ৩০ হাজার লিটার তেল ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর পর্যন্ত প্ল্যান্টটিতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে। সীমিত এই জ্বালানি দিয়ে উৎপাদন চালিয়ে নিতে গিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে টিপিপিজিএলের প্ল্যান্ট ম্যানেজার একেএম এনায়েত উল্লাহ সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় টাঙ্গাইল অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে সেচ মৌসুম ও গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে শিল্পকারখানা ও সাধারণ মানুষের জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন