ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
গোলাম রব্বানী, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক নারী সাংস্কৃতিক কর্মীকে তুলে নিয়ে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মহিমকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি ঢাকার তুরাগ থানাধীন বাউনিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-৫ (সিপিসি-৩) এবং র্যাব-১-এর উত্তরা সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তারকৃত মহিম জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার ভাসিলা নাপিতপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল মান্নানের ছেলে।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ও তার স্বামী জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার গুচ্ছগ্রাম এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তারা পেশায় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নৃত্যশিল্পী। মামলার প্রধান তিন আসামি সুমন, সাইফুল এবং মহিমের সাথে তাদের একটি নাচের অনুষ্ঠানের চুক্তি হয়েছিল। তবে অনিবার্য কারণে ওই অনুষ্ঠানটি না হওয়ায় তাদের মধ্যে টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত ৮টার দিকে ভিকটিম ও তার স্বামী ক্ষেতলাল বাজার থেকে ঔষধ কিনে ভ্যানযোগে বাড়ি ফেরার পথে ইটাখোলা টেকনিক্যাল কলেজের সামনে পৌঁছালে মহিমসহ ৩/৪ জন তাদের পথরোধ করে। অভিযুক্তরা ভ্যানচালককে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং ভিকটিম ও তার স্বামীর মুখ চেপে ধরে টেনেহিঁচড়ে ভাসিলা মোল্লা কোল্ডস্টোরের পশ্চিম পাশে কুমারগাড়া মাঠের নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
সেখানে ভিকটিমের স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে হাত-মুখ বেঁধে দূরে ফেলে রেখে রাতভর ওই নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। রাত আনুমানিক ৮টা ২৫ মিনিট থেকে ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আসামিরা ভিকটিমকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই জঘন্য ঘটনার পরদিন ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভিকটিম বাদী হয়ে ক্ষেতলাল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর থেকেই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে র্যাব-৫-এর একটি আভিযানিক দল আসামিদের গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে মহিমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। জঙ্গি, সন্ত্রাসী এবং ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে। মামলার সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও র্যাব নিশ্চিত করেছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ