ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সামজাদ জসি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভিডিও নির্মাণ করায় দ্বীন ইসলাম (৩০) নামে এক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত দ্বীন ইসলাম ওই গ্রামের সফিকুর ইসলাম ও পারুলী বেগমের ছেলে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন, যেখানে স্থানীয় মাদক কারবার ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সাথে ভিডিও প্রচার করতেন।
অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের মৃত্যুর মাত্র একদিন আগে দ্বীন ইসলাম একটি ৩০-৪০ সেকেন্ডের ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন। সেখানে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে। ভিডিওতে তিনি নিজের মৃত্যুর জন্য কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বিএনপি নেতা ও মেহারী ইউনিয়ন সভাপতি আবদুল আউয়াল এবং মাদক কারবারি লোকমানসহ একটি সিন্ডিকেটের নাম উল্লেখ করেন। এই তালিকা তিনি পরিবারের কাছেও জমা দিয়ে গেছেন বলে ভিডিওতে দাবি করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল দ্বীন ইসলামের বাড়িতে চড়াও হয় এবং তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বুড়িনদী পার করে কুমিল্লার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পরিবার ৯৯৯-এ কল করলে বাঙ্গরা থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে কসবা থানা ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী চক্রটি পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল আউয়াল ও তাঁর সহযোগীদের সরাসরি দায়ী করেছেন। তবে আবদুল আউয়াল এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন।
কসবা থানা পুলিশ জানায়, মরদেহের প্রাথমিক সুরতহালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ভিডিওতে ওসির নাম আসা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একজন সংবাদকর্মী ও সমাজসচেতন যুবকের এমন মৃত্যুতে স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার ও ওসির ভূমিকা নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এন.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ