ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
রাম জোয়ার্দার, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা শহর থেকে মাত্র ৫-৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি গ্রামের নাম ‘মঙ্গলপুর’। গ্রামটির নাম মঙ্গলপুর হলেও এর বর্তমান অবস্থা অনেকটা জনমানবহীন মঙ্গল গ্রহের মতোই। ৬০ একর আয়তনের এই গ্রামটিতে বিঘার পর বিঘা ফসলি জমি থাকলেও নেই কোনো বসতি, নেই কোনো মানুষের স্থায়ী বিচরণ। দেড়শ বছর আগের সমৃদ্ধ এক জনপদ আজ কেবলই ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় জনশ্রুতি ও প্রবীণদের ভাষ্যমতে, এক সময় মঙ্গলপুর গ্রামে দালানকোঠা, পুকুর, রাস্তাঘাট এমনকি মসজিদ ও মন্দিরও ছিল। সচ্ছল গৃহস্থদের গোলাভরা ধান আর গোয়ালভরা গরু ছিল। কিন্তু আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে কলেরার প্রাদুর্ভাব, বসন্ত রোগ এবং দুর্ধর্ষ ডাকাত দলের ভয়ে গ্রামটি উজাড় হতে শুরু করে। অমঙ্গলের আশঙ্কায় বেঁচে থাকা বাসিন্দারাও একে একে ভিটেমাটি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নেন। সর্বশেষ ৯০ থেকে ১০০ বছর আগে চাজরা ঠাকুর ও নিপিন ঠাকুরসহ ৫-৬টি পরিবার গ্রামটিতে ছিল, তারাও শেষ পর্যন্ত ঘরবাড়ি ভেঙে প্রস্থান করেন। এরপর থেকে গ্রামটি পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে পড়ে।
সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, মঙ্গলপুর গ্রামে ২০৬টি খতিয়ানভুক্ত জমির মধ্যে সরকারি খাস জমি ৫৯ শতক, ভিপি তালিকাভুক্ত ৫ একর ৭৭ শতক এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি রয়েছে ২৫২ একর ১২ শতক। এছাড়া কাঁচা রাস্তার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২ একর ২ শতক ভূমি। বর্তমানে গ্রামজুড়ে শুধুই ধান, মসুর, আখসহ বিভিন্ন সবজি ও ফসলি বাগান চোখে পড়ে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বসতভিটার ধ্বংসাবশেষ এবং পরিত্যক্ত কয়েকটি পুকুর। গ্রামটির বাসিন্দাদের উত্তরসূরীরা বিভিন্ন সময় এসে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষের কাছে তাদের জমিজমা বিক্রি করে গেছেন।
পাশপাতিলা গ্রামের বাসিন্দা অরবিন্দু কর্মকার জানান, বাপ-দাদাদের কাছে এই গ্রামের সমৃদ্ধির গল্প শুনেছেন তারা। এখন সেখানে কৃষকরা কেবল চাষাবাদের জন্য যান। মঙ্গলপুর গ্রাম পর্যন্ত যাওয়ার ১৮ ফুট চওড়া পুরনো মাটির রাস্তাটি এখন পাকা করা হচ্ছে। মাঠে কাজ করতে আসা কৃষকদের জন্য সেখানে দুটি পুকুর ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা রয়েছে। কৃষকরা ওই পানি ব্যবহার করেন এবং মাঠেই নামাজ আদায় করেন। তবে এলাকায় খুব বেশি বয়স্ক মানুষ জীবিত না থাকায় মঙ্গলপুর গ্রামটি কেন এবং ঠিক কত সালে জনশূন্য হয়েছিল, তার নিখুঁত ইতিহাস এখন আর কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারেন না। কালের বিবর্তনে একটি বর্ধিষ্ণু গ্রাম আজ কেবলই ইতিহাসের পাতায় বন্দি।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ