ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
নাজিম উদ্দীন জনি, শার্শা (বেনাপোল) প্রতিনিধি: শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বেলতলা বাজারের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। কুয়াশাভেজা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো বাজার এখন মৌসুমি ফল কুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মুখর। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই বাজারের কুল এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফলের বাজারে প্রধান জোগানদাতা হিসেবে নিজের অবস্থান করে নিয়েছে। একসময় এই অঞ্চলে কুলের চাষ সীমিত থাকলেও লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে শার্শা ও পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে গড়ে উঠেছে শত শত বিঘা কুলের বাগান। কৃষি অর্থনীতির এই নতুন বিপ্লব পাল্টে দিচ্ছে স্থানীয় গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান।
বেলতলা বাজারে প্রতিদিন বল সুন্দরী, থাই, চায়না, আপেল ও টক কুলসহ হরেক প্রজাতির কুল উঠছে। বাজারে আসা কুল চাষি আকসেদ আলী জানান, এবার ফলন গত বছরের চেয়ে কিছুটা কম হলেও বাজারমূল্য বেশ সন্তোষজনক। বিশেষ করে বেলতলা বাজারের সঠিক ওজন ও স্বচ্ছ কেনাবেচার পরিবেশ চাষিদের এই বাজারের প্রতি আগ্রহী করে তুলছে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে বিরতিহীন কেনাবেচা। ঝিনাইদহ থেকে আসা ফল ব্যবসায়ী মুজাহিদ জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সাথে জড়িত। বাজারে কুলের ব্যাপক চাহিদা থাকায় তুলনামূলক বেশি দামে কিনলেও অন্য শহরে তা ভালো লাভে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয় আড়তদার সালাউদ্দীন মুকুল, মিনারুল ও আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বছর কুলের চাহিদা ও কেনাবেচা গত মৌসুমের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। চাষি এবং পাইকারি ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই দাম নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বেলতলা বাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মুন্না বলেন, কুলকে কেন্দ্র করে এই বাজারের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে ভবিষ্যতে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হবে। তিনি এই খাতের বিকাশে প্রশাসনের আরও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৩৮ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কুল চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বল সুন্দরী, থাই ও আপেল কুলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। ফলন ও বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় কৃষকরা কুল চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি ও পরামর্শমূলক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে, যা আগামীতে কুল চাষের পরিধি আরও বাড়াতে সহায়ক হবে। বর্তমানে বেলতলা বাজারের এই বাণিজ্যিক ব্যস্ততা শার্শার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ